দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্বের অন্যতম সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী এখন খবরের শিরোনামে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালীর সমুদ্র পথ। ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত এখন বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলছে। যে কারণেই ভারত সহ বহু দেশের জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সময় আটক। তবে সূত্রের খবর আজ শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার দুটি LPG ট্যাঙ্কার, শিবালিক এবং নন্দা দেবী, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর এই পথ দিয়ে গোটা বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসের বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ আমদানি-রফতানি হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়াতে পারে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে। ফলে, আজ যে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১০৫ টাকা, দাম বাড়লে এই তেলের দাম প্রতি লিটার হতে পারে প্রায় ১৪০ টাকারও বেশি।
সূত্র অনুযায়ী, যে দুটি জাহাজ অর্থাৎ, শিবালিক এবং নন্দা দেবী হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এদের মধ্যে শিবালিকে প্রায় ৪০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাস আছে। নন্দা দেবীতে আছে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি।
কত ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে ?
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে ২৮টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। ২৮টির মধ্যে ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম অংশে আটকে আছে। আর এই ২৪ টি জাহাজে প্রায় ৬৭৭ জন নাবিক রয়েছেন। আবার পূর্ব অংশে ৪টি জাহাজ আটকে, যার মধ্যে ১০১ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।
বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, এই সমস্ত জাহাজের কার্যকলাপ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় দূতাবাস, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং শিপিং কোম্পানিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
জাহাজ গুলোতে কী কী আছে ?
হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলির মধ্যে দুটি ভারতীয় LPG বহনকারী ট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে এমনটাই খবর। বাকি জাহাজগুলোও গ্যাস, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহন করছে।
