নয়া দিল্লি: বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে একটা বদল দেখা গিয়েছে। ৭ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি শুরু হওয়ায় শর্তসাপেক্ষ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ইরান। তারপর ভারতীয় সময় ৮ তারিখ সকালের দিকে তেলের দাম (Crude Oil Price) বেশ খানিকটা কমে গিয়েছিল। সেদিন বেড়েছিল ভারতের শেয়ার বাজারও। কিন্তু তারপর লেবাননে হামলা চলে ইজরায়েল। তারপরই তেহরানের পক্ষ থেকে একটা কড়া বিবৃতি দিয়ে জানানও হয়েছে যে, “সংঘর্ষবিরতি আর যুদ্ধ একসঙ্গে চলতে পারে না”।
লেবাননে ইজরায়েলি হামলার পরই ইরানের ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) তরফে দাবি করা হয়েছে যে লেবাননে ইজরায়েলের হামলার কারণে লঙ্ঘিত হয়েছে সংঘর্ষবিরতি। আর এর পর থেকেই হরমুজ (Strait of Hormuz) দিয়ে আপাতত বন্ধ রয়েছে জাহাজ চলাচল। ইরান হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। অনুমতি ছাড়া হরমুজ (Strait of Hormuz) পেরোতে গেলে হামলা হবে, জানিয়েছে তেহরান। এ ছাড়াও হরমুজ দিয়ে যে সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করবে তার ব্যারেল প্রতি ১ ডলার করে শুল্ক দেবে বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। জানানও হয়েছে ইরান ও ওমান এই শুল্ক আদায় করবে।
এই সব ঘটনার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বাজারে। একদিকে যেমন ধাক্কা খেয়েছে একাধিক দেশের শেয়ার বাজার। তেমনই এক লাফে দাম বেড়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের। এদিন সকলের মধ্যেই ফিউচার্সের দাম ৩.৩১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছুঁয়ে ফেলেছিল ব্যারেল প্রতি ৯৭.৮৯ ডলার। অন্যদিকে, ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮.৩৮ ডলার ছুঁয়েছিল। এই দাম আগের দিনের থেকে ৪.২ শতাংশ বেশি।
সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা হওয়ার পরই অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে গিয়েছিল ১০০ ডলারের নীচে। তখন মনে হয়ছিল যুদ্ধের উত্তেজনা কমে গেলে অবস্থা আবারও আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু লেবাননে ইজরয়ের আক্রমণ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে আবারও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে পড়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী খোলার ব্যাপারটা। আর এই সবের মধ্যে এক ধাক্কায় দাম বাড়লো অপরিশোধিত তেলেরই। যদি আশা করা যায় এর প্রভাব এখনই ঘরোয়া বাজারে পড়বে না। ফলে, এখনই পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছে না বিশেষজ্ঞ মহল।
তথ্যসূত্র: IANS
