পাল্লেকেলে: ১৬৫ রান তাড়া করতে নেমে নতুন বলে শাহিন শাহ (Shaheen Shah Afridi) আফ্রিদির বিধ্বংসী স্পেলে একেবারে ব্যাকফুটে ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই সময়ই সামনে এগিয়ে এলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (Harry Brook)। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফর্ম এবং বিশেষ করে শট নির্বাচন বারংবার সমালোচনার সম্মুখীন হয়। তবে দলের প্রয়োজনে এক অবিস্মরণীয় ইনিংস খেললেন ব্রুক।
কেরিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতরান এল তাঁর ব্যাট থেকে। আর ব্রুকের ব্যাটে ভর করেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনালের টিকিট পাকা করে ফেলল ইংল্যান্ড। শাহিন শাহ আফ্রিদি এইদিন নতুন বলেই নিজের তিন ওভারে ইংল্যান্ড টপ অর্ডারে ধস নামিয়ে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। চতুর্থ ওভারেও তিনি ব্রুককে ফেরালেন। তবে ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ব্রুকের শতরানে প্রায় জয়ের দোরগোড়ায় ইংল্যান্ড।
শেষে উইল জ্যাকস ও জেমি ওভারটনকে আউট করে মহম্মদ নওয়াজ ম্যাচ আরও খানিকটা জমিয়ে দেন বটে। কিন্তু সেই জয়ের হাসি হাসল ইংল্যান্ডই। দুই উইকেটে পাঁচ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিল ইংরেজরা। এই জয়ের সুবাদেই সেমিফাইনালের টিকিটও পাকা করে ফেলল তাঁরা। এই পরাজয়ের ফলে পাকিস্তান এখনও সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে না গেলেও, তাদের শেষ চারে পৌঁছনোর পথটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেল।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার সাঈম আয়ুব (৭) এবং সলমন আলি আঘা (৫) অল্প রানে সাজঘরে ফেরেন। তবে অপরদিকে শাহিবজাদা ফারহানকে ভাল ছন্দে দেখাচ্ছিল। বাবর আজম তাঁকে সঙ্গ দেন। রানের গতি কম থাকলেও বাবর ইনিংসকে স্থিরতা প্রদান করেন। তবে জেমি ওভারটনের বলে তিনি আউট হন ২৫ রানে। ফারহান অবশ্য নিজের ইনিংস অব্যাহত রেখে ৩৭ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন। নিঁখুত ইয়র্কারে তাঁর মূল্যবান উইকেটটি নেন ওভারটন। পাক ওপেনার ৬৩ রানে সাজঘরে ফেরেন।
মিডল অর্ডারে ফখর জামান ও শাদাব খানের ২৫ ও ২৩ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে ১৬৪ রান তুলতে সাহায্য করে। ইংরেজদের হয়ে মোট তিন উইকেট নেন লিয়াম ডসন। জবাবে ব্যাটে নেমে শুরুতেই বিপত্তি। ইংল্যান্ড ইনিংসের প্রথম বলেই ফিল সল্টকে সাজঘরে ফেরত পাঠান আফ্রিদি। তিনি জস বাটলারকেও দুই রানে আউট করেন। পাওয়ার প্লের তৃতীয় ওভারে শাহিন জেকব বেথলকেও আট রানে আউট করেন।
দলের দরকারে এদিন নিজেকে তিনে প্রমোট করেছিলেন হ্যারি ব্রক। তা লাভদায়কও হল। পাকিস্তানের একের পর এক স্পিন আক্রমণ দারুণভাবে সামলালেন ব্রুক। প্রথমে স্যাম কারান ও পরে উইল জ্যাকস তাঁকে সঙ্গ দেন। তাঁরা যথাক্রমে ১৬ ও ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। শেষে নওয়াজের দুই উইকেটে চাপ বেড়েছিল বটে। তবে জোফ্রা আর্চারের বাউন্ডারিতে ইংল্যান্ড ম্যাচ জয় এবং সেমিফাইনাল, দুইই নিশ্চিত করে।
