হারারে: ঘরোয়া ক্রিকেট এবং মূলত আইপিএলে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে ভারতীয় জাতীয় দলে নিজের জায়গা পেয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। তবে প্রথম সুযোগেই ব্য়র্থ। বিলেতের মাটিতে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেনি বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Soorynavanshi)। তবে জিম্বাবোয়েতে (IND vs ZIM) প্রথম টি-২০ তে ব্যাটে নেমেই দুরন্ত ইনিংস। হারেরেতে ১৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাস গড়ে ফেলে বৈভব।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ইনিংসের সুবাদে বৈভবই সবথেকে কম বয়সি ক্রিকেটার হিসাবে অর্ধশতরান করার কৃতিত্ব নিজের নামে করে। বৃহস্পতিবার বৈভবের বয়স ছিল ১৫ বছর ১১৮ দিন। আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে এত কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাফসেঞ্চুরি করেননি কেউই। এতদিন এই রেকর্ড ছিল সচিনের। ফয়সালাবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৮৯ সালে টেস্টে যখন হাফসেঞ্চুরি করেন সচিন, তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২১৩ দিন। ১৯৯৬ সালে নাইরোবিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ক্রিকেটে শাহিদ আফ্রিদি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন ১৬ বছর ২১৪ দিন বয়সে। তবে সচিন তেন্ডুলকরের কীর্তি ভেঙে দিল বৈভব। সব রেকর্ড ভেঙে গেল বৈভবের ব্যাটে। তৈরি হল নতুন ইতিহাস।
মাত্র ১৮ বলেই নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরান হাঁকায় বৈভব। এই ইনিংস তার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুরু করতে লাভবান হবে এবং আসন্ন ম্যাচগুলিতে তাকে ভাল পারফর্ম করতেও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বৈভবের মতে সে নিজের এই ইনিংসে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের শক্তি অনুযায়ী পারফর্ম করে।
বিসিসিআইয়ের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে বৈভবকে বলতে শোনা যায়, ‘কেরিয়ারের শুরুতে এই ধরনের ইনিংস খেলতে পারলে পরবর্তী ম্যাচগুলির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ে। মনে হচ্ছিল আমি নিজের জ়োনে ছিলাম এবং তখন আমি নিজের শক্তিশালী দিকগুলির কথা মাথায় রেখে খেলছিলাম।’
জ়িম্বাবোয়ে প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১২৫/৭। জবাবে ৪০ বল বাকি থাকতে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যপূরণ করল ভারত। ১৯ বলে ৫০ রান করে শুরুতেই জ়িম্বাবোয়ের বোলিংকে কোণঠাসা করে দেয় বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব। ঈশান কিষাণও ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন এবং শ্রেয়স আইয়ার করেন পরিপক্ক ২৮ রান। ফলত সহজেই ৪০ বল বাকি থাকতে সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারতীয় দল। তিন ম্যাচের সিরিজ়ে আপাতত ১-০ এগিয়ে যায় ভারতীয় দল। কাল সিরিজ়ের দ্বিতীয় ম্যাচে পুনরায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
