গ্লাসগো: গ্লাসগোতে ২০১৪ তে পারেননি। গোল্ডকোস্ট, বার্মিংহ্যামের পর গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস(Commonwealth Games)। টানা তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিলেন মীরাবাঈ চানু(Mirabai Chanu)। ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পর চানু বলছেন, ‘আমি বেজায় খুশি যে দেশের হয়ে তৃতীয়বার সোনা জিতেছি। অনেকগুলো বিষয়ে আমাদের মাথায় চলছিল। আমার মূল লক্ষ্য এশিয়ান গেমস, যা খুব কাছেই রয়েছে। তাই গ্লাসগোতে আমি আমার শক্তির ১০০% ঢেলে দেওয়ার ঝুঁকি নিইনি বা খুব বেশি কঠিন চেষ্টা করিনি। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেই আমি প্রতিযোগিতাটি খেলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রিও অলিম্পিক্সে ব্যর্থ হওয়ার পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম সে সময়ে। কিন্তু আমি জানতাম আমাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। মনিপুর বা দেশের যে কোনও প্রান্তের মেয়েদের আমি বলতে চাই, কোনও স্বপ্নই খুব বড় নয়। সুবিধা বা পরিকাঠামোর অভাব থাকতে পারে, কিন্তু যদি মনের জোর ও নিষ্ঠা থাকে তবে যে কোনও প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস মেয়েদের দেখাতে হবে।’
গ্লাসগোতে ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতেছিলেন মীরাবাঈ চানু। এখনও পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসের আসরে তিনটি সোনা ও একটি রুপো জিতেছেন চানু। তিনি বলেন, ‘আজ আমি যেখানে পৌঁছেছি তার পেছনে আমার পরিবার, বিশেষ করে আমার মায়ের অনেক বড় অবদান রয়েছে। জীবনের শুরুতে ট্রাক ড্রাইভারদের কাছ থেকে লিফট নিয়ে ট্রেনিংয়ে যেতাম। আমার কোচ ও ফিজিওরা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন, চোট থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাকে অনুশীলনে নামার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।’
এর আগে টোকিও অলিম্পিক্সে রুপো জমিতেছিলেন মীরাবাঈ চানু। কর্ণম মলেশ্বরীর পর দ্বিতীয় ভারতীয় ভারোত্তোলক হিসেবে অলিম্পিক্সে পদক জিতেছিলেন চানু। প্যারিস অলিম্পিক্সে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেছিলেন। মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিলেন। তবে কমনওয়েলথে কিন্তু সোনা জয়েরই অন্য়তম দাবিদার ছিলেন মীরাবাঈ চানু। সেই লক্ষ্যই পূরণ করলেন তিনি। ৪৮ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন।
