June 24, 2026
f78f83cdd18366e66b77f74dfa9b6f6f17822681742281373_original.jpg
Spread the love


কলকাতা: বড়রা সব সময় বলেন টাকা জমানোর কথা। আর বাড়ির যে ছেলেটা সদ্য চাকরি পেয়েছে, তার মনে হয়, এখনই কেন জমাব? চাকরি পেয়েছি, এটাই তো স্বপ্ন পূরণের সময়। আর বর্তমানে অনেক মানুষ এমন রয়েছেন, যাঁরা উপার্জন করতে শুরু করার পর বহুদিনের অনেক শখ, সাধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ গাড়ি কেনেন, কেউ বাড়ি আবার কারও ফোন। অনেকেই আবার ঘুরতে যান দূরের বিভিন্ন জায়গায়। ফলে, সব মিলিয়ে চাকরি পাওয়ার পর সব থেকে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেই দিকেই নজর দেয় না অনেকে। সেটা হল টাকা জমানো।

আরও পড়ুন: Maruti Suzuki Wagon R-এর ফ্লেক্স ফুয়েল মডেল নাকি সাধারণ E20 মডেল? অতিরিক্ত ৮৬ হাজার টাকা খরচ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

কম বয়স থেকে টাকা জমানো প্রয়োজন। যাঁরা ছোট থেকেই টাকা জমনোর কথা বলেন, তাঁদের কথা আমাদের খারাপ লাগলেও এটি কিন্তু সত্যি যে টাকা জমানোর কোনও বিকল্প আজও নেই। একমাত্র যদি না লটারি লাগে। কারণ, মাত্র ১০ বছরের এদিক ওদিকে বিনিয়োগ শুরু করলে রিটার্নে বিরাট পার্থক্য হয়ে যায়।

আচ্ছা, বিষয়টা দু’জনের উদাহরণ দিয়েই বোঝা যাক। ধরা যাক, যদু আর মধু দুই ভাই। দু’জনেই প্রায় একই মাইনের চাকরি করে। দু’জনেই ২৫ বছর বয়সে চাকরি পেয়েছে। অর্থাৎ, দু’জনের সবই এক। এবার চাকরি পেয়েই যদু মাসিক ৫ হাজার টাকার SIP শুরু করল, নিফটি ৫০ ইনডেক্স ফান্ডে। যার ঐতিহাসিক রিটার্ন বছরে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, মধু ভাবল এখন একটু মজা করে নিই। ১০ বছর পর বিনিয়োগ শুরু করব।

আরও পড়ুন: শোকজের পর এবার ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ থেকে বহিষ্কৃত ফিরহাদ হাকিম সহ একাধিক নেতা-নেত্রী

১০ বছর পর কী অবস্থা? ১০ বছরে যদু জমিয়ে ফেলেছে ৬ লক্ষ টাকা। যে টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো। মধু তখনও কোনও বিনিয়োগ শুরু করেনি। মধু সেই সময় প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। তাহলে আগামী ১০ বছরে সে ১২ লক্ষ টাকা জমিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, যদু তার বিনিয়োগে কোনও বদল করল না।

আরও ১০ বছর পর যদু ও মধু, দু’জনেরই ১২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হয়ে গিয়েছে যদুর মোট টাকার অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে ৪৫ লক্ষ টাকায়। অন্যদিকে, মধুর মোট টাকা পৌঁছে গিয়েছে ২২ লক্ষ ৪০ হাজারে। বর্তমানে তাঁদের বয়স ৪৫ বছর। যদি তাঁরা আরও ১৫ বছর, এই একই ভাবে চলতে থাকেন, তাহলে কী হবে?

আরও ১৫ বছর পর, যদু জমিয়ে ফেলেছে ২১ লক্ষ টাকা। যে টাকা সুদে আসলে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায়। অন্যদিকে, মধু প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে জমিয়ে মোট জমিয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। টার সুদে আসলে মোট টাকা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ, মধু প্রতি বছর যদুর দ্বিগুণ টাকা দিয়েও তার থেকে ১ কোটি টাকার মতো কম রিটার্ন পাচ্ছে। যদু কোন জায়গায় মধুর থেকে এগিয়ে? সেটা হল বিনিয়োগের সময়। যদু মধুর থেকে ১০ বছর বেশি সময় ধরে বিনিয়োগ করছে। আর সেই জায়গাতেই কম্পাউন্ডিংয়ের বিরাট সুবিধা পেয়েছে সে। মধুকে যদুর সময় পরিমাণ টাকা জমাতে হলে প্রতি মাসে জমাতে হত ১৬ হাজার টাকার থেকেও বেশি।

(মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks