কলকাতা: ভারতে বর্তমানে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক বছর সোনা না কেনার’ আবেদনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় আবেদন: কেন ১ বছর সোনা না কেনার কথা বললেন? টাকার উপর এর প্রভাব কী?
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ভারতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় এক অভিনব ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কেন এই আবেদন? সাধারণ মানুষের সোনা কেনার সঙ্গে ভারতীয় রুপির (INR) মানের কী সম্পর্ক?
কেন সোনা কেনা কমাতে বলছেন প্রধানমন্ত্রী?
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার মূল্য চোকাতে হয় মার্কিন ডলারে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সংকটকালে যদি দেশের মানুষ সোনা কেনা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেন, তবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (Forex Reserve) সাশ্রয় হবে, যা দিয়ে তেলের আমদানির খরচ মেটানো সহজ হবে।
সোনা কেনা যেভাবে টাকার ওপর প্রভাব ফেলে, অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনা এবং টাকার মধ্যে একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে:
১. ডলারের চিহ্নিতকরণ: ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ। সোনা আমদানির জন্য সরকারকে প্রচুর পরিমাণে মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়।
২. কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD): যখন আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তখন দেশের ‘কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট’ বা চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি পায়।
৩. রুপির অবমূল্যায়ন: বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লে এবং রুপির জোগান বেশি থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপির মান পড়ে যায়। অর্থাৎ, ১ ডলার কিনতে আগের চেয়ে বেশি রুপি খরচ করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সাধারণ পরিবারগুলিকে আবেদন করেছেন যেন তাঁরা অন্তত এক বছর বিয়ে বা উৎসবের জন্য সোনা কেনা এড়িয়ে চলেন। একে তিনি এক প্রকার ‘দেশসেবা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
একটি পরিবারের সোনা কেনা কি আদৌ প্রভাব ফেলতে পারে?
একটি পরিবার সোনা না কিনলে টাকার দামে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা লক্ষ লক্ষ পরিবারের সামগ্রিক চাহিদা বিবেচনা করেন। ভারত প্রতি বছর শত শত টন সোনা আমদানি করে। বিয়ের মরসুমে এবং অনিশ্চিত অর্থনৈতিক সময়ে এর চাহিদা প্রায়শই আরও বেড়ে যায়, কারণ পরিবারগুলি সোনাকে একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গণ্য করে। এমন এক সময়ে যখন তেলের দাম ইতিমধ্যেই ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারকরা সোনা আমদানির মাধ্যমে ডলারের দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া রুখতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে।
মোদির ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার নির্দেশ
করোনা মহামারীর সময় যেমন মানুষ অফিসের বদলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করত, এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই একই আর্জি জানালেন দেশবাসীকে। তিনি বলেছেন, আমরা করানোর সময় প্ল্যাটফর্ম বেস কাজ করেছি। অনলাইনে মিটিং বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজ করেছি। এই ব্যবস্থা যদি আবারও শুরু করা যায়, তাহলে দেশের উপকার হবে। আর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাঁচানোর জন্য জোর দিতে হবে। গোটা বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। তাই পেট্রোল ডিজেল কেনা কমিয়েই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাঁচাতে হবে।
