নয়াদিল্লি: পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে রানের পাহাড় গড়েও পরাজিত হয় দিল্লি ক্যাপিটালস (DC vs PBKS)। হারের ধাক্কা তো ছিলই, পাশাপাশি ম্যাচের মাঝে দলের তারকা ফাস্ট বোলার লুঙ্গি এনগিদিও (Lungi Ngidi ) চোট পান। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন কেমন আছেন তিনি?
বিধ্বংসী প্রিয়াংশ আর্য দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর পটেলের বলে বড় শট মারতে গিয়ে মিসটাইম করেন, অনেক উঁচুতে ক্যাচ উঠে। মিড অনে দাঁড়ানো এনগিদি সেই ক্যাচ ধরতে পিছনের দিকে দৌড়ন তবে বলে ঠিকভাবে হাতও লাগাতে পারেননি তিনি। উপরন্তু তিনি যখন মাটিতে পড়েন, তখন প্রোটিয়া তারকার মাথা মাঠে জোরে ধাক্কা খায়। আর সেই মাথা ও কাঁধে ভর করেই পাল্টিও খান তিনি। এরপরে আর নড়াচড়াই করতে পারেননি এনগিদি।
তড়িঘড়ি ডাক্তার, ফিজিওরা মাঠে ছুটে আসেন। তিনি ডাক্তারের প্রাথমিক শুশ্রুষায় সাড়া দিলেও কোনওরকম নড়াচড়াই করতে পারছিলেন না। শেষমেশ গলায় নেকব্রেস পড়িয়ে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় এনগিদিকে। তাঁর এমন পরিস্থিতি দেখে কয়েক মিনিটের জন্য গোটা মাঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। এনগিদির পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে তাঁকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতাল নিয়ে যেতেই হত।
এনগিদিকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, এই খবর আসতেই অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। এসিপি ট্রাফিক (সেন্ট্রাল) সঞ্জয় সিংহ তৎক্ষণাত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রিন করিডোর তৈরির সিদ্ধান্ত নেন, যাতে এনগিদিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। প্রবল জানজোট সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশের তৎপরতায় গ্রিন করিডোরে সুবাদে মাত্র ১১ মিনিটে মাঠ থেকে এনগিদিকে বিএলকে-ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় ফের একবার প্রমাণ করে দেয় জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ কতটা তৎপরতা এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সবটা সামলায়। দিল্লি পুলিশের এই তৎপরতা নিঃসন্দেহেই বাহবা পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের দৌলতেই সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর রাতের দিকে এনগিদিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসের টিম হোটেলেও ফিরেছেন বলে IANS-র এক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর পরিস্থিতির দিকে অবশ্য দিল্লি ক্যাপিটালসের মেডিক্যাল স্টাফরা আসন্ন দিনে কড়া নজর রাখবে। এই বিষয়ে অবগত এক সূত্র IANS-কে জানান, ‘ওকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া এবং টিম হোটেলে ফেরত পাঠানোটা কিন্তু ওর সেরে উঠার দিক থেকে দেখলে অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির মেডিক্যাল স্টাফরা ওর খেয়াল রাখবে।’
