মুম্বই : এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর, শ্যালক ও তাঁদের এক আত্মীয়। মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকার ঘটনা।
ঘটনা কী ?
গত শনিবার রাত ৯টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন ইউসুফ খান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। বয়স বছর ৩০। ফেরার পথে তাঁর গাড়ি রাস্তার খানাখন্দে পড়ে যায়। গর্তে জল ছিল। সেই জল গিয়ে ছিটকে লাগে ইউসুফের আত্মীয় শোয়েব খানের গায়ে।
ইউসুফ খান পুলিশকে জানিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়ি দাঁড় করিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন শোয়েবের কাছে। কিন্তু, শোয়েব তাঁকে হেনস্থা করেন। বাঁশের লাঠি করে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেঙে দেন। এরপর শোয়েব ইউসুফকে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। এর জেরে আহত হন ইউসুফ।
ইউসুফ খান বাড়ি ফেরার পর ঘটনার কথা তাঁর পরিবারকে জানান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে থানার উদ্দেশে রওনা হন। থানার পথে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয়, ইউসুফের শ্বশুর খালিদ খান ওরফে মাকালিকের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্র উমরশাদ খান, মূল অভিযুক্ত শোয়েব ও আরও এক অভিযুক্ত শেহবাজ পাঠান। উভয়পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, খালিদ, উমরশাদ, শোয়েব ও শেহবাজ মিলে ইউসুফ খান ও তাঁর আত্মীয়দের লাঠি এবং বেসবল ব্যাট দিয়ে আক্রমণ করেন। এর জেরে ইউসুফের শ্যালক সলমনের হাত ভেঙে যায়। এছাড়া গুরুতর আহত হন কাকা জাকি আহমেদ।
ঘটনার পর শেহবাজ পলাতক। বাকি তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে, বিচারক তাদের আগামী ২ মে পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি সংগ্রহ করে। এর পাশাপাশি হামলার সময় যে লাঠি ও বেসবল ব্যাট ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ, সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ আদালতে জানিয়েছে যে, সিসি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে অভিযুক্তদের স্পষ্ট শনাক্ত করা যাচ্ছে।
প্রসিকিউশনের তরফে তাদের জামিন মঞ্জুর করার বিরোধিতা করে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, অন্য অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে, তাদের অপরাধমূলক পূর্ব ইতিহাস যাচাই করতে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিকৃত হওয়া রোধ করতে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
