নয়াদিল্লি: বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে সটান ট্রেনে ধাক্কা। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বালুচিস্তান। এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ট্রেনটিতে পাকিস্তানের সেনাকর্মীরা ছিলেন। তাঁদের নিশানা করে বিচ্ছিন্নতাকামীরাই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। (Balochistan Train Blast)
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে বালুচিস্তান প্রদেশে এই ঘটনা ঘটেছে। কোয়েট্টার চমন পটক এলাকায়, বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি তীব্র গতিতে ছুটে গিয়ে ট্রেনের একটি কামরায় ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, কেঁপে ওঠে চারিদিক। আগুনের গ্রাসে চলে যায় চার পাশের সবকিছু। এত তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে যে ট্রেনের আরও দু’টি কামরা উল্টে যায়। আগুন ঘরে যায় সেগুলিতেও। (Balochistan Blast)
পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইদ উপলক্ষে বাড়ি যাচ্ছিলেন পাকিস্তানি সেনার কর্মীরা। ট্রেনে সওয়ার ছিলেন তাঁদের পরিবার, ছেলেমেয়েরাও। পেশোয়ার যাচ্ছিল ট্রেনটি।
#Balochistan: At least 23 people were killed and 47 injured, including women and children, after a suspected suicide bombing targeted a passenger train near #Quetta–#Chaman Phatak (Railway crossing) in Balochistan. Several victims remain in critical condition.
Authorities said… pic.twitter.com/xXU1vF6DTO
— Wolverine Update (@W0lverineupdate) May 24, 2026
ঘটনাস্থল থেকে যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ট্রেনের বেশ কয়েকটি কামরা উল্টে পড়ে রয়েছে। দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে তখনও। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে আরও কিছু গাড়ি। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ছোঁয়ার জোগাড়। সেই পরিস্থিতিতেই ট্রেনের উল্টে যাওয়া কামরার উপর উঠে যান স্থানীয়রা। আহতদের ভিতর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার চেষ্টা হয়।
আরও পড়ুন: পরমব্রতর ‘রগড়ানি’ মন্তব্যকে সমর্থন! অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্য়ায়কে জিজ্ঞাসাবাদ, দিলীপ ঘোষ বললেন…
চারপাশে রক্তাক্ত দেহও পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকার্যে নেমেছে সেনা। স্ট্রেচারে করে দেহ বের করে আনা হচ্ছে ধ্ব্সস্তূপ থেকে। রেললাইন থেকে ২৫-৩০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে কার্যত। একটি বহুতল ছিল ওই এলাকায়। পুড়ে গিয়েছে সেটিও। দেওয়াল ভেঙে পড়েছে একদিকের। উড়ে গিয়েছে জানলা-দরজা।’
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সকালে বালোচ লিবারেশন আর্মির মজিদ ব্রিগেড, অর্থাৎ ফিদাঁয়ে বিভাগ (আত্মঘাতী বিভাগ) সেনাকর্মীদের নিয়ে যাওয়া ট্রেনকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। নিখুঁত আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। বালোচ লিবারেশন আর্মি এর সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে। কত জন মারা গিয়েছে, হামলার খুঁটিনাটিও জানানো হবে সকলকে’।
যে কোয়েট্টা ক্যান্টনমেন্টের কাছে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে সর্বক্ষণ সেনা মোতায়েন রাখে পাকিস্তান সরকার। আবার অশান্ত বালুচিস্তানের রাজধানীও কোয়েট্টা। বালুচিস্তানের একদিকে আফগানিস্তান, অন্য দিকে ইরান। দশকের পর দশক সেখানে সশস্ত্র সংগ্রাম চলে আসছে। প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ বালুচিস্তানকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে চায় বিচ্ছিন্নতাকামীরা। সাম্প্রতিক কালে, শক্তি বাড়িয়ে পর পর পাক সেনাকে নিশানা করে চলেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। এর আগে আস্ত একটি ট্রেনই ছিনতাই করেছিল তারা।
