নয়াদিল্লি: নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ। কার্যত মহামারির পরিস্থিতি কঙ্গো এবং উগান্ডায়। হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সেই আবহে জনস্বাস্থ্যে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৩০০ জনের বেশি ইবোলা আক্রান্ত বলে সন্দেহ। মারা গিয়েছেন কমপক্ষে ৮৮ জন। (Ebola Virus Outbreak)
কী পরিস্থিতি
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করেছে WHO. বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোভিড ১৯-এর মতো অতিমারি করার পরিস্থিতি আসেনি। তাই আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ রাখার কথা বলা হচ্ছে না এখনই। WHO-র ডিরেক্টর টেড্রস অ্য়াডানম গেব্রিয়েসাসের বক্তব্য, “কঙ্গো এবং উগান্ডায় Bundibugyo ভাইরাসের দরুণ ইবোলার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে এখনও অতিমারির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংক্রমিতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে সংক্রমণ, তাও অস্পষ্ট। সংক্রমিত বা সন্দেহভাজন রোগীদের সঙ্গে মহামারির সংযোগ বোঝার উপায়ও সীমিত।” (Ebola Outbreak)
ল্য়াবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় এখনও পর্যন্ত আটজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে আরও ২৫০ জনকে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে ৮০ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের শরীরেও ইবোলা ভাইরাস থাবা বসিয়েছিল বলে সন্দেহ। উগান্ডায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সংক্রমিতের খোঁজ মেলে। একজন মারাও যান। জানা যায়, একজন সম্প্রতি কঙ্গো থেকে ফিরেছিলেন। তবে দুই রোগীর মধ্যে কোনও সংযোগ পাওয়া যায়নি। WHO জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে যে কয়টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ভাইরাসটি অতি সংক্রামক। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। অন্য দেশেও ছড়াতে পারে সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে সকলের তরফে সমন্বয় এবং সহযোগিতার প্রার্থনা করেছে WHO.
ইবোলা ভাইরাস কী?
ইবোলা ভাইরাস একটি প্রাণীবাহিত, প্রাণঘাতী সংক্রমণ, যা মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে। অর্থোইবোলাভাইরাস থেকে এর সৃষ্টি, যার তিনটি ভাগ রয়েছে, ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং বুন্ডিবুজিও ভাইরাস। রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হয়। গড় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। কঙ্গে এবং উগান্ডায় বুন্ডিবুজিও ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যা ইবোলার বিরল একটি প্রজাতি। না আছে তার চিকিৎসা, না টিকা। কঙ্গো এবং উগান্ডায় এর আগে ২০ বারেরও বেশই ইবোলার প্রকোপ দেখা গিয়েছে. তবে এই নিয়ে তৃতীয়বার বুন্ডিবুজিও ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিল। কঙ্গোতেই সংক্রমিতের সংখ্যা বেশি। উগান্ডায় দু’জনের শরীরে বুন্ডিবুজিও ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।
কীভাবে ছড়ায় ইবোলা ভাইরাস?
ইবোলা একটি প্রাণীবাহিত রোগ। ফল খাওয়া বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায় মূলত। শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, বাঁদর, হনুমান, বুনো হরিণ, শজারু থেকেও ছড়াতে পারে। সরাসরি সংস্পর্শে এলে, বা সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হতে হয়। সংক্রমিতের রক্ত, নিঃসরণ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা শরীরের অন্য তরল, দূষিত পরিবেশ, বিছানা, পোশাক-পরিচ্ছদ, বমি, রক্ত, বীর্য থেকেও ছড়াতে পারে সংক্রমণ।
আরও পড়ুন: ‘পরের নির্বাচনে তৃণমূল নামের কোনও দল থাকবে না’, ফলতায় দাঁড়িয়ে ভবিষ্যদ্বাণী শমীক ভট্টাচার্যের
ইবোলার উপসর্গ কী কী?
শরীরে ২১ দিন পর্যন্ত গোপনে বাসা বেঁধে থাকতে পারে ইবোলা। উপসর্গ বলতে হঠাৎ করে জ্বর, ক্লান্তি, পেশির যন্ত্রণা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা হতে পারে। বমি, ডায়রিয়া, পেটের যন্ত্রণা, শরীরে ফসকুড়ি, কিডনি এবং যকৃতের কার্যক্ষমতা কমার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
সুপ্তাবস্থা দুই থেকে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞানুসারে, উপসর্গগুলো আকস্মিকভাবে দেখা দিতে পারে এবং এর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ক্লান্তি, অসুস্থতাবোধ, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা। এরপর বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি এবং কিডনি ও যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসের লক্ষণসমূহ দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে। রক্তে বা মলের সঙ্গে রক্ত বেরোতে পারে। নাক দিয়ে, দাঁতের মাড়ি দিয়ে, যৌনাঙ্গ দিয়েও হতে পারে রক্তক্ষরণ। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। RT-PCR এবং ELISA, অ্যান্টিজেন ক্যাপচার ডিটেকশন টেস্ট এবং ভাইরাস আইসোলেশন বাই সেলকালচারের মাধ্যমে রোগ নির্ধারণ করা হয়।
ইবোলার চিকিৎসা
WHO-র সুপারিশ অনুযায়ী, mAb114 (ansuvimabTM) অথবা REGN-EB3 (InmazebTM) অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে চিকিৎসা হয় রোগীদের। মৃতদের দেহ নিরাপদে সমাধিস্থ করার রীতি রয়েছে। সংক্রমিতদের চিহ্নিত করে তাঁদের উপর নজরদারি চালানো হয় টানা ২১ দিন। অসুস্থদের থেকে আলাদা রাখা হয় সুস্থদের। পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয় বিশেষ করে।
ইবোলার টিকা
মহামারি পরিস্থিতিতে Ervebo (Merck & Co.), Zabdeno & Mvabea (Janssen Pharmaceutica) ব্যবহার করা হয়।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
