কলকাতা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ তোলা বেআইনি নয়। তবে নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ যদি লেনদেন করা হয় তাহলে তা আয়কর দফতরের নজরে আসে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি একটি বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে এক অর্থ বছরে মোট ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি নগদ তোলেন, তাহলে সেই তথ্য ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরকে আয়কর দফতরের কাছে জানাতে হয়।
আরও পড়ুন: অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে নতুন আপডেট, সময়সীমা বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত
আয়কর আইনের অধীনে এই ধরনের উচ্চমূল্যের নগদ লেনদেন ‘স্টেটমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশন’ বা SFT -এর আওতায় রিপোর্ট করা হয়। শুধু একবারে ১০ লক্ষ টাকা তোলার মতো বিষয় নয়, বরং একটা গোটা অর্থ বছরে মোট কত টাকা নগদ তোলা হচ্ছে, সেটা হিসাব করা হয়। এই একই নিয়ম নগদ জমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্যান বা Parmanent Account Number অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকের প্যানের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য সংযুক্ত করে আয়কর দফতরে পাঠায়। ফলে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্যানের তথ্য প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন: EPFO 3.0 এলে মুহূর্তে PF তোলা যাবে UPI-তে, বড় ডিজিটাল বদলের পথে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড
তবে ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ তোলা হলেই যে আয়কর দফতর তদন্ত শুরু করবে, এমন নয়। কারণ ব্যাঙ্কে থাকা অর্থ গ্রাহকের নিজের টাকা এবং তা আয় হিসেবে গণ্য হয় না। কিন্তু আয়কর দফতর এই তথ্যকে অন্যান্য আর্থিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর রিটার্ন (ITR), অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS), টিডিএস রেকর্ড এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তি যদি ঘোষিত আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ তোলেন, বারবার নগদ তুলে আবার জমা করেন বা লেনদেনের ধরণ তাঁর আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে আয়কর দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।
তাই বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন করার সময় সঠিক নথিপত্র ও আয়ের উৎসের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতে কোনও প্রশ্ন উঠলে বা আয়কর দফতর থেকে কোনো নোটিশ এলে তার যথাযথ উত্তর দেওয়া সহজ হবে। আর আয়কর দফতরের পাঠানো নোটিশের যথাযথ জবাব দিলে কখনওই ভয়ের কোনও কারণ থাকে না।
