July 9, 2026
144457a2e68d1adb635cac0af541bc5f1783610215763338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: মারণ রোগ ক্যান্সার নিয়ে এবার বড় সতর্কবাণী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)। যে হারে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে ২০৫০ সাল আসতে আসতে প্রতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ করে বাড়তে পারে বলে জানাল তারা। বর্তমানে প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ২ কোটি ৬ লক্ষ মানুষ। প্রতি বছর মারা যান ১ কোটি ক্য়ান্সার রোগী। এই মুহূর্তে মৃত্য়ুর দ্বিতীয় প্রধান কারণই হল ক্যান্সার। এখনই সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করল WHO. (Global Cancer Report)

WHO-র Global Status Report on Cancer 2026-এর রিপোর্ট এই পরিসংখ্যান পেশ করেছে। বলা হয়েছে, ক্যান্সার ঠেকানোয় এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এখনও সময়ে রোগ ধরা পড়ে না, মেলে না ওষুধ, সঠিক চিকিৎসা হয় না। ক্যান্সার প্রতিরোধ, আগেভাগে রোগের চিহ্নিতকরণ এবং উন্নত মানের চিকিৎসা লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারে। তাই অপেক্ষা করে বসে না থেকে এখনই সক্রিয় হওয়া উচিত বিভিন্ন দেশের সরকারের। ক্যান্সারের দরুণ সাধারণ মানুষের জীবনে যে মানসিক এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা নেমে আসছে, পরিবারগুবি যে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে, সেকথাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। (Cancer Cases)

ভারতকে নিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্যান্সার ভারতের অন্যতম স্বাস্থ্যসঙ্কটে পরিণত হচ্ছে। বয়স ৭৫ ছোঁয়ার আগে প্রতি ১০ জনে অন্তত একজনের ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। ৭৫ ছোঁয়ার আগে ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি প্রতি ১০০ জনে সাত জনের।  ২০২২ সালে ভারতে ১৪ লক্ষের বেশি মানুষ। ক্যান্সারে মারা যান ৯ লক্ষ ১৬ হাজার ৮২৭ জন। ২০২৪ সালে ১৬ লক্ষ মানুষের শরীরে ক্য়ান্সার হানা দেয়। মারা যান ৯ লক্ষ ক্যান্সার রোগীর। ২০৫০ সাল আসতে আসতে ভারতে বছরে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ২৮ লক্ষ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বার্ধক্য এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: ‘শি ইজ ফিনিশড, দেওয়াল লিখন পড়তে পারেননি’, বললেন সুখেন্দুশেখর, বিজেপি-তে যোগ দিয়েই কি মমতাকে নিশানা?

গোটা পৃথিবীতে যত সংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তার অধিকাংশই ভারত এবং চিনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে মানুষ এখন বেশি দিন বাঁচেন। আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে হানা দিচ্ছে ক্য়ান্সার। সেই সঙ্গে ভারতবাসীর জীবনযাপনেও বড় পরিবর্তন চোখে পড়ছে। নগরায়নের সঙ্গে স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত মদ্যপান, বায়ুদূষণকে ভারতে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে, গুটখা, খৈনি, সুপারির ব্যবহারে বাড়ছে মুখের ক্যান্সার। ভারতে স্তন ক্যান্সার বেড়েছে অনেকটাই, ২০২২ সালে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২০ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর পর ঠোঁট এবং ওরাল ক্য়াভিটি ক্যান্সার রয়েছে, ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৫৯। সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫২৬, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ৮১ হাজার ৭৪৮, এসোফেগাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ৭০ হাজার ৬৩৭। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার এবং সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বাড়ছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে বাড়ছে ঠোঁট ও ওরাল ক্যাভিটি ক্যান্সার। সেই সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারও বাড়ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন WHO-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস। তাঁর কথায়, “ক্যান্সার একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত লড়াই, যা আমাদের প্রত্যেককে ছুঁয়ে যায়। কিন্তু ক্যান্সারকে পরাজিত করে কেউ বাঁচবেন কি না, তা কখনওই তাঁর জন্মস্থান বা আয়ের  উপর নির্ভর করা উচিত নয়। রিপোর্টে যে বৈষম্যগুলি উঠে এসেছে, তা অনিবার্য কারণ নয়, বরং কিছু সিদ্ধান্তের ফলাফল। ঐক্যবদ্ধ হয়ে, জোরাল পদক্ষেপ করলে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে।”

আরও পড়ুন: বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক? রাজ্যসভার টিকিট কি বাঁধা? একটু পরেই সাংবাদিক বৈঠক

WHO-র রিপোর্ট বলছে, আগামী ২৫ বছরে বার্ষিক ক্যান্সারের হারে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটবে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং বার্ধক্যকে এর অন্যতম নেপথ্যকারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পরিবেশ সংক্রান্ত ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে। ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে তামাকদ্রব্যের ব্য়বহার। সেই সঙ্গে মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দূষণ। HPV-র উল্লেখও রয়েছে, যা টিকাকরণের দ্বারা প্রতিরোধ সম্ভব। 

ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে চিকিৎসা নাগালের মধ্যে না থাকা। WHO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলিতে বসবাসকারী মানুষজন উন্নততর, অত্যাধুনিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ বেশি পান। দরিদ্র দেশগুলিতে রোগ ধরাই পড়ে দেরিতে। ফলে সমস্যা গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়, চিকিৎসা হয়ে ওঠে ব্যয়সাপেক্ষ। যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের কাছে ওষুধ, রেডিয়েশন থেরাপি পৌঁছে দেয় না সরকার। চিকিৎসার খরচ দেখে অনেকে সেদিকে এগোনই না, দেরিও করেন অনেকে।

Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )

Calculate The Age Through Age Calculator



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks