নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন। ভারতের এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কার্যত যমে মানুষে টানাটানি চলছিল।
অবশেষে লড়াই শেষ হল। আফগানিস্তানের প্রাক্তন কিংবদন্তি ফাস্টবোলার শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran) প্রয়াত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তাঁর চিকিৎসা ভারতেই চলছিল। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মঙ্গলবার তাঁর প্রয়াণের খবর জানিয়েছে।
হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস বা HLH রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। প্রথমে আফগানিস্তানেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় ভারতে। নয়াদিল্লির এক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি ছিলেন। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল ভারতে। সেই সময় আফগানিস্তানের আর এক কিংবদন্তি ক্রিকেটার রশিদ খান তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান।
শাপূর জাদরানের ভাই ঘামাই জাদরানও দাদার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। জানুয়ারি মাসে শাপূর জাদরানকে নয়াদিল্লিতে এনে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় থেকে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ঘামাই। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, HLH এর অ্যাডভান্সড স্টেজে ছিলেন জাদরান। অলৌকিক কিছু না হলে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনকই থাকত। তবু সবরকম চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। শেষরক্ষা হল না।
কী এই HLH? চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এটি একটি বিরল রোগ, যা আক্রান্তের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসা করলেও সব সময় সাড়া মেলে না। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে গেলে অবশ্য বাঁচার আশা থাকে। তবে শাপূর জাদরানের ক্ষেত্রে রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তাঁর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যত কিছুই ছিল না।
إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
With profound grief and deep sorrow, the Afghanistan Cricket Board mourns the passing of former Afghanistan fast bowler Shapoor Zadran.
Shapoor Zadran was one of the foundation-laying figures of Afghanistan cricket, whose dedication,… pic.twitter.com/iPIAJ6HLkq
— Afghanistan Cricket Board (@ACBofficials) July 7, 2026
আফগানিস্তান ক্রিকেটকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করার অন্যতম কারিগর ছিলেন শাপূর জাদরান। ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত খেলেছেন। ৬ ফিট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ফাস্টবোলার বিশ্বের তাবড় ব্যাটারদের বেগ দিয়েছেন।আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ান ডে আর ৩৬টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮০টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে তিনি চমক দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজ়িল্যান্ডে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে ১০ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন বাঁহাতি ফাস্টবোলার।
রশিদ, আশগার আফগান সহ একাধিক আফগানিস্তানের ক্রিকেটারের মেন্টরের মতো ছিলেন। দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের আগলে রাখতেন। যে কারণে বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যেও প্রবল জনপ্রিয় তিনি।
