ইসলামাবাদ : পাকিস্তানেই চ্যালেঞ্জের মুখে আসিম মুনির। সে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ‘জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম’ (JUI-F) -এর প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ফিল্ড মার্শালকে। তিনি মুনিরের উদ্দেশে বলেছেন, “যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইউনিফর্ম খুলে আসুন; ভোটে নামুন, তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কত ভোট পান।” মৌলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। যিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার এবং পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর অত্যধিক প্রভাবকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
ফজলুর রহমান হলেন ‘জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম’ দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া নামে পরিচিত) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মাহমুদের ছেলে। পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত রহমান বারবার শরিয়া আইন প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং দীর্ঘকাল ধরে আফগান তালিবানের সঙ্গেত থেকে ‘ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব অসামরিক সমালোচকদের মধ্যেও রহমান অন্যতম। জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরোধিতার লক্ষ্যে গঠিত বহু-দলীয় জোট ‘মুভমেন্ট ফর দ্য রেস্টোরেশন অফ ডেমোক্রেসি’ (এমআরডি)-র অংশ হিসেবে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন।
মুনিরের সঙ্গে রহমানের এমন সংঘাতের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে, ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানোর যে কৌশল ইসলামাবাদ নিয়েছিল, তিনি তার নিন্দা করেছিলেন।
মৌলানা ফজলুর রহমান (জন্ম ১৯ জুন ১৯৫৩, ডেরা ইসমাইল খানের আব্দুল খেলায়) হলেন বিশিষ্ট দেওবন্দি আলেম ও রাজনীতিবিদ মুফতি মাহমুদের পুত্র। মুফতি মাহমুদ ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রহমান স্থানীয় মাদ্রাসায় তাঁর প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে আকোরা খাট্টাকের দারুল উলুম হাক্কানিয়া-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। ১৯৮০ সালে বাবার মৃত্যুর পর, তরুণ রহমান জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই)-এর নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রহমান ১৯৮৮ সালে ডেরা ইসমাইল খান থেকে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি আরও অন্তত ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এহেন রহমান সরব হয়েছেন মুনিরের বিরুদ্ধে।
