ঢাকা : ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্ত বাংলাদেশ। দ্রুত অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারির দাবি তুলেছে ইনকিলাব মঞ্চ। এবার চার্জশিট পেশ করল বাংলাদেশ পুলিশ। আওয়ামী লিগের নির্দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে। তাতে ১৭ জনের নাম রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার মহম্মদ শফিকুল ইসলামের বক্তব্য, বিভিন্ন জনসমাবেশ এবং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে অধুনা-নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগের অতীতের কার্যকলাপের কড়া সমালোচনা করে গেছেন হাদি। তাঁর এই সোজাসাপ্টা কথাবার্তা ক্ষুব্ধ করে তোলে ছাত্র লিগ ও তাদের অনুমোদিত গ্রুপের নেতা ও কর্মীদের।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগ। হাদি-হত্যা মামলায় এদিন আদালতে চার্জশিট পেশ করে ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিবেচনা করে তদন্তে উঠে এসেছে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ফাইল করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন মূল সন্দেহভাজন ফৈজাল করিম মাসুদ। চার্জশিটে নাম থাকা ১৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হাসিনা বিরোধী ছাত্রনেতা ওসমান হাদি খুনের পরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তুঙ্গে উঠেছিল ভারতবিরোধী জিগির। সেই ঘটনায় বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নিহত ছাত্রনেতার দাদা ! শরিফ ওসমান হাদির দাদা ওমর বিন হাদি বলেন, “আপনারা যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় ওসমান হাদিকে হত্য়া করা হয়েছে, এই হত্য়ার দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না। আপনাদেরও বিচার হবে। শহিদ ওসমান হাদির গোটা খুনি চক্রকে জাতির সামনে উত্থাপন করুন।”
গত ১২ ডিসেম্বর রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ, ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। তারপর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বারবার প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে হাদিকে খুন করে পালিয়ে গেল দুষ্কৃতী ? তাকে কি পালিয়ে যেতে কেউ বা কারা সাহায্য করেছে ? এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার শাহবাগে ‘শহিদ শপথ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সেখান থেকে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ারি দন নিহত ছাত্রনেতার দাদা। তিনি বলেন, “আজ হোক ১০ বছর পরে হোক বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে। আপনারা যদি মনে করেন আর দু মাস পর রাষ্ট্রের ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন, মনে রাখবেন এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই। ওসমান হাদি বলেছিলেন ফেব্রুয়ারিতেই দেশে নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচন করার জন্য সে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তাকেই হত্য়া করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।”
