June 10, 2026
46ea535e2ac3a40aa93c88f7582238021780938764295223_original.png
Spread the love


মুম্বই: সোমবার ভারতীয় বাজারে বড়সড় পতন ঘটল সোনা ও রুপোর দামে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে সোমবার সোনা ও রুপোর দামে বড় পতন দেখা গেল। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনা ও রুপো—দুই মূল্যবান ধাতুই ৪ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে এঁদের। আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের জেরে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম এক দিনে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে।

এমসিএক্সে অগাস্ট ডেলিভারির সোনার ফিউচার্স সর্বোচ্চ ১.৮৫ শতাংশ বা ২,৮৮২ টাকা কমে ১,৫২,৭১২ টাকায় নেমে আসে। পরে সোনার দাম ১,৫৩,৫৫০ টাকার আশপাশে লেনদেন হতে দেখা যায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২,০৪৪ টাকা কম।

অন্যদিকে জুলাই ডেলিভারির রুপোর ফিউচার্স প্রায় ৩ শতাংশ বা ৬,৭৭৪ টাকা কমে ২,৪১,৭৬৩ টাকায় নেমে আসে। দিনের এক পর্যায়ে রুপোর দাম ৩.৮১ শতাংশ পর্যন্ত কমে ২,৩৯,০৬৪ টাকায় পৌঁছে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। কমেক্সে (COMEX) সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩২৪.৭০ ডলারে নেমেছে। রুপোর দামও ২.৭৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.১৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী মার্কিন চাকরির তথ্য প্রকাশের পর বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আরও দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনা ও রুপোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে।

তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদাকে কিছুটা সমর্থন দিচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান আলোচনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুগুলিতে কেনার চাপ সীমিত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার ও তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারেও আজ ধাতুর দাম ছিল নিম্নমুখী। কমেক্স (COMEX)-এ রুপোর দাম ২.৭৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং কমেক্স সোনা প্রায় ১ শতাংশ কমে ৪,৩২৪.৭০ ডলারে লেনদেন করছে।

অন্যদিকে, বহুমূল্য ধাতু সস্তা হলেও হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৯০ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪.৭৫ ডলারে বিকোচ্ছে।

বিশ্ববাজারের এই ডামাডোলের জেরে এশিয়ার অন্যান্য শেয়ার বাজারেও বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই (Nikkei) প্রায় ৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (KOSPI) ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং (Hang Seng) প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত লসের মুখ দেখেছে।

কেন হঠাৎ এই পতন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
কমোডিটি বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা-রুপোর দাম কমার পেছনে মূলত বিশ্ববাজারের দুটি বড় কারণ রয়েছে:

মার্কিন সুদের হারের আশঙ্কা: সম্প্রতি আমেরিকার কর্মসংস্থানের শক্তিশালী তথ্য (US Jobs Data) সামনে এসেছে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় চড়া রাখতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সোনা ও রুপোর মতো অ-ফলদায়ী (non-yielding) সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। 

ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা বজায় থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে তৈরি হওয়া ইতিবাচক পরিবেশ এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনার হিড়িক কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks