May 12, 2026
4a25cc5e6e062a3d0eac44b191785c7b1778569411688338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: লুকিয়ে গ্রাহকের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ। এবার কাঠগড়ায় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স (Netflix). গ্রাহকের অনলাইন গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো থেকে সম্মতি ছাড়া গ্রাহকের ডেটা চুরির অভিযোগও উঠল তাদের বিরুদ্ধে। সেই মর্মে মামলা দায়ের হল আদালতে। ( Netflix Spying on Users)

নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা

ডিজিটাল যুগে শুধুমাত্র মেটা, ইউটিউব নয়, অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে মানুষের। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ, ডেটা চুরির মতো ঘটনা। মেটা, ইউটিউবের বিরুদ্ধে এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় এবার নাম উঠল নেটফ্লিক্সের। আমেরিকার টেক্সাসে তাদের বিরুদ্ধে মামাল দায়ের হল। (Netflix Lawsuit Case)

আরও পড়ুন: ফের বিয়ে ভাঙছে বলিউডে? ব্যবসায়ী স্বামীকে ‘আনফলো’ করলেন বাঙালি নায়িকা, জল্পনা তুঙ্গে

টেক্সাস প্রদেশের সরকারই নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুধু নজরদারি চালানো, ডেটা চুরিই নয়, অসৎ উপায়ে নেটফ্লিক্সের প্রতি গ্রাহকদের আসক্ত করে তোলা, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আসক্তি বাড়িয়ে তোলায় অভিযুক্ত নেটফ্লিক্স। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের দফতর থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসেই ৭০০-র বেশি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ ‘থালাপতি’ বিজয়ের, জানালেন, মন্দির-মসজিদ-গির্জার কাছে…

নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ?

বলা হয়েছে, সোজা হিসেব নেটফ্লিক্সের, বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে এবং পরিবারের লোকজনকে স্ক্রিনে আটকে রাখা। আর সেই সময় প্রয়োজনীয় ডেটা হাতিয়ে নেওয়া। লাভজনক মূল্যে পরে সেই ডেটা বিক্রি করা হয়। অভিযোগপত্রে একেবারে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়, ‘আপনি নেটফ্লিক্স দেখছেন, নেটফ্লিক্সও আপনাকে দেখছে’।

অভিযোগপত্রে ‘ডার্ক প্যাটার্নে’রও উল্লেখ রয়েছে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় এই শব্দবন্ধ অত্যন্ত পরিচিত। এর আওতায় কোনও অ্যাপ বা প্রযুক্তি পরিষেবার ভিতরে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন লুকিয়ে থাকে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নজরে পড়ে না। আর ওই প্যাটার্নই গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহে সাহায্য় করে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে। সেই তথ্য বেচে বাড়তি মুনাফা লাভ করে তারা।

কী ভাবে গ্রাহকের সততার সুযোগ নেওয়া হয়? 

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, দৈনন্দিন জিনসপত্রের কোনও অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন হয়ত। সেক্ষেত্রে কোন ফোন থেকে ওই অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। আইফোন বা অ্যাপলের কম্পিউটার ব্যবহার করলে, সেই সব গ্রাহককে বিত্তবান বলে ধরা হয়। তাঁদের সামনে যে সব পণ্য তুলে ধরা হয়, তার দাম তুলনামূলক বেশি। একই ভাবে, অনলাইন স্ট্রিং প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিনে যদি চোখ আটকে থাকে কারও, সেক্ষেত্রে অজান্তেই ফাঁদে  পা দেওয়া হয়ে যায়। সাবস্ক্রিপশনের ফাঁদ থেকে বেরনো যায় না যেমন, তেমনই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকার সাবস্ক্রিপশন নিতেও দ্বিধা করেন না মানুষজন। পাশাপাশি, গ্রাহকের অনলাইন গতিবিধি, পছন্দ-অপছন্দ, সব ডেটাও হাতিয়ে নেওয়া যেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কীভাবে নজরদারি চালানো হয়?

নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলায় ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনও সিনেমা বা সিরিজ দেখার পর, একই ঘরানার অন্য সিনেমা বা সিরিজ দেখার সুপারিশ করছে নেটফ্লিক্স। অর্থাৎ কিছু না জানিয়েই, গ্রাহকের প্রোফাইল গড়ে তোলে নেটফ্লিক্স। কী দেখা উচিত, তা গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে গ্রাহকের পছন্দ-অপছন্দের রেকর্ডও থাকে তাদের কাছে। যে কারণে প্রত্যেকের নেটফ্লিক্স হোম-স্ক্রিন পৃথক হয়।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেটফ্লিক্সের মুখপাত্র যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সত্যিই কি নেটফ্লিক্স গ্রাহকদের দেখছে? জবাব হ্যাঁ এবং না, দুই-ই হতে পারে। কারণ নেটফ্লিক্স আলাদা করে আমাদের টিভি বা ল্যাপটপে ক্যামেরা বসায় না। তবে ক্যামেরা না বসালেও, গ্রাহকের উপর নজরদারি সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের যুক্তি, গতিবিধি দখদর্পণে রাখাও নজরদারির গোত্রে পড়ে। কে কোন ধরনের সিনেমা বা সিরিজ দেখছেন, কোথায় পজ় করছেন, কোথায় রিপিট করছেন, কত তাড়াতাড়ি দেখছেন, দিনের কোন সময়ে দেখছেন, সপ্তাহের কোন কোন দিন বেশি সময় কাটাচ্ছেন স্ক্রিনে, কতক্ষণ দেখছেন, তা নখদর্পণে নেটফ্লিক্সের। প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করে গ্রাহকের প্রোফাইল তৈরি করে তারা, যা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করা আইন বহির্ভূত বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা কোন দিকে এগোয়, তা-ই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks