April 9, 2026
f1f5cdd6fffe46293a0f2e61e7204f601767638844061170_original.jpg
Spread the love


নিউইয়র্ক : “আমি নির্দোষ। এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনওটিতেই আমি দোষী নই।” নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টে দাঁড়িয়ে এভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করলেন ভেনিজুয়েলার বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এর পাশাপাশি তিনি বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে একথাও স্পষ্ট বলেন, “আমাকে বন্দি করা হয়েছে। আমি একজন ভদ্র মানুষ, আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।” তিনি এখনও ভেনিজুয়েলার নেতা বলেই বারবার কোর্টে উল্লেখ করেন মাদুরো। একইভাবে নির্দোষ বলে দাবি করেন ভেনিজুয়েলার ফার্স্ট লেডি ও মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি দাবি করেন, যেসব চার্জ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, সেসবে তিনি নির্দোষ। 

নাটকীয়ভাবে দিনকয়েক আগে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে বন্দি করে আমেরিকার সেনাবাহিনী। যে ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক দেশ। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। প্রশাসনের আরও অভিযোগ, মেক্সিকোর সিনালোয়া এবং জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার FARC বিদ্রোহী এবং ভেনিজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়ার মতো গ্যাংয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে কোকেন পাচারে জড়িত রয়েছেন মাদুরো। যদিও মাদুরো ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায়, “মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগগুলি অস্বীকার করে আসছেন, বলেছেন যে এগুলি ভেনিজুয়েলার সমৃদ্ধ তেল মজুতের উপর সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার মুখোশ।” তাঁর পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, ২০১৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর থেকে তাঁর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মাদুরোর জয়ের পর থেকে মার্কিন সরকার তাঁকে একজন অবৈধ স্বৈরশাসক হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

বারবার মাদক পাচারের অভিযোগ তুলছিল আমেরিকা। অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এনিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। চাপ বাড়াতে সেপ্টেম্বর থেকে ভেনিজুয়েলার কাছে জলপথে ২০ বারের বেশি আকাশপথ থেকে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু, এবার একেবারে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঢুকে পড়ে আমেরিকার সেনাবাহিনী। শুধু আক্রমণই নয়, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকা নিয়ে যায় বাহিনী।

আমেরিকার অতর্কিতে আক্রমণের পর, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ভেনিজুয়েলা। এর পাশাপাশি সরকার এটিকে “অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks