সন্দীপ সরকার, কলকাতা: পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছিল কালবৈশাখীতে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় দুই দলই পেয়েছিল এক পয়েন্ট করে। যে ম্যাচের পর অতি বড় কেকেআর সমর্থকও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কারণ, অনেকেরই মনে হয়েছিল, নিদেনপক্ষে পাঁচ ওভার করে খেলা হলেও কেকেআর হেরে যেতে পারত। ৩.৪ ওভারে ২৫/২ ছিল দলের স্কোর। বৃষ্টিতে যেন মানইজ্জত বেঁচে গিয়েছিল কেকেআরের।
সেই ম্যাচের ঠিক তিনদিনের মাথায়, বৃহস্পতিবার ফের ইডেনে নামছে কেকেআর। এবার প্রতিপক্ষ, সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল লখনউ সুপার জায়ান্টস। আর সেই ম্যাচেও কি না বৃষ্টির ভ্রুকূটি!
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১০ এপ্রিল, শুক্রবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায়। এ ছাড়াও গোটা রাজ্যে হলুদ সতর্কতাও (Yellow Alert) জারি করেছে তারা। সর্বত্রই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে হওয়া অফিস। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্যোগ শুরু হওয়াতেই কেকেআর ও লখনউ, দুই দলকেই ঘণ্টা দেড়ে প্র্যাক্টিস সেরে উঠে যেতে হল।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর বৃহস্পতিবারও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে পুরো ম্যাচ ভেস্তে নাও যেতে পারে। কারণ, দুর্যোগ হতে পারে বিকেল-সন্ধ্যার দিকে। ম্য়াচ শুরু সাড়ে সাতটায়। ওভার কাটছাঁট করে হলেও খেলার ফয়সালা হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় ঝুঁকি নিতে নারাজ। গোটা মাঠ ঢেকে রাখা হচ্ছে।
এই ম্যাচে কেকেআরের সামনে আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেন এমন একজন, ইডেন যাঁর ঘরের মাঠ। তিনি, মহম্মদ শামি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী স্পেল করে কলকাতায় এসেছেন। বুধবার লখনউয়ের স্পিন বোলিং কোচ কার্ল ক্রো, যিনি আবার কেকেআরের সঙ্গেও কাজ করেছেন, বলছিলেন, ‘আমাদের জোরে বোলিং কোচ ভরত অরুণ ও শামি মিলে চারদিন ধরে ভিডিও দেখে পরিকল্পনা করেছিল, কীভাবে অভিষেক শর্মাকে আউট করতে হবে। সেটাই ম্যাচে করে দেখিয়েছিল শামি। আমাদের পরিকল্পনাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’
কেকেআর শিবির নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, ফিন অ্যালেন কোথায় অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, অজিঙ্ক রাহানে-রিঙ্কু সিংহদের দুর্বলতা কোথায়, ভরত অরুণের নোটবুকে উঠে গিয়েছে। এই ভরতই ভারতীয় দলের বহোলিং কোচ থাকাকালীন যশপ্রীত বুমরা, শামি, মহম্মদ সিরাজ সমৃদ্ধ সর্বকালের অন্য়তম সেরা পেস বোলিং আক্রমণ গড়ে উঠেছিল। কাজ করেছেন কেকেআরেও। এবার পুরনো দলের বিরুদ্ধে ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগের পালা।
লখনউ শিবিরে রয়েছেন দিগ্বেশ সিংহ রাঠিও। যে স্পিনার গত আইপিএলে হইচই ফেলেছিলেন। উইকেট নিয়ে তাঁর নোটবুক সেলিব্রেশন বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ইডেনের বাইশ গজে তাঁকে সামলানোও সোজা হবে না। সঙ্গে থাকছেন ঋষভ পন্থ-নিকোলাস পুরানের মতো একের পর এক মারকাটারি ব্যাটার। নাইট বোলারদের অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে।
সুনীল নারাইন কি পরীক্ষায় বসতে পারবেন? বুধবার নেটে বল করলেন। বরুণ চক্রবর্তী মাঠে এসেছিলেন আঙুলে স্ট্র্যাপ জড়িয়ে। মাঠ ছাড়লেন অবশ্য টেপ খুলেই। আগের ম্যাচে ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার নারাইন হয়তো খেলবেন। তবে ছন্দ হারানো বরুণের খেলার সম্ভাবনা কম।
