নয়াদিল্লি: আরও ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে পারে ভারত। চলতি মাসের শেষে ভারত সফরে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাকরঁ। তাঁর সফর চলাকালীনই সেই মর্মে অনুমোদন মিলতে পারে। ডিফেন্স অ্যাকিউজিশন কাউন্সিল (DAC) শীঘ্রই প্রস্তাবে অনুমোদন দিতে চলেছে বলে খবর। (Rafale Fighter Jet)
দিল্লি সূত্রে খবর, শীঘ্রই রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে DAC-র বৈঠক হতে চলেছে। প্রয়োজনকে সামনে রেখে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন মিলতে পারে সেখানে। প্রতিরক্ষা সচিব নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট বোর্ডের তরফে গতমাসেই অনুমোদন মেলে। (Indian Air Force)
১১৪টি রাফাল কিনতে প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে খবর। একসঙ্গে এত সংখ্যক বিমান কেনার রেকর্ডও গড়বে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে যথেষ্ট সংখ্য়ক যুদ্ধবিমান নেই এই মুহূর্তে। বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত স্কোয়াড্রনের সংখ্যা যেখানে ৪২, এই মুহূর্তে তাদের হাতে ২৯টি ফাইটার স্কোয়াড্রন রয়েছে। এক-একটি ফাইটার স্কোয়াড্রনে ১৮টি করে যুদ্ধবিমান থাকে।
Deal for 114 Rafale fast-tracked, likely to announce during French President’s India visit this month. 🇮🇳
• Deal Cost: ₹3.25 lakh Cr
• Variants: F4 & F5
• Seat configuration: 88 single, 26 twin
• 1st batch Delivery: by 2030 est
• Total Rafales with IAF Post induction: 150 pic.twitter.com/C9YEd1hz3q— Defence Core (@Defencecore) February 5, 2026
দেশের উত্তর এবং পশ্চিম সীমান্তে ঝুঁকি যখন বাড়ছে, সেই সময় কোনও ঘাটতি রাখা উচিত হবে না বলে মত বিশেষেজ্ঞদের। সেই মতোই আরও রাফাল কেনার দিকে এগোচ্ছে ভারত। যে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার কথা চলছে, তার মধ্যে ১৮টি ফ্রান্স থেকে একেবারে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ভারতের হাতে উঠবে। বাকি যুদ্ধবিমানের নির্মাণ হতে পারে ভারতেও।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে ৮৮টি এক আসন বিশিষ্ট এবং ২৬টি দুই আসন বিশিষ্ট হবে। বিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে ফ্রান্সের সংস্থা ‘দাসোঁ’। ঢের আগে থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান। অত্যাধুনিক সেন্সর সম্বলিত ওই যুদ্ধবিমান থেকে বহু দূরের লক্ষ্যেও আঘাত হানা সম্ভব।
চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সখ্য যেভাবে বাড়ছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও যেভাবে পরস্পরের সহযোগী হয়ে উঠেছে তারা, তাতেই রাফাল কিনতে দিল্লি এত তৎপরতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। DAC-র তরফে অনুমোদন মিললেই প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা হবে। শুরু হবে দরাদরি। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।
