July 30, 2026
4ce7baa7decb8411d7aa10a6fb4247b41768293726020338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: আমেরিকা এবং তাদের সহযোগী দেশগুলিকে বাদ দিয়ে, পৃথক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ আগেও চোখে পড়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আবারও সেই লক্ষ্যে সক্রিয় হতে শুরু করল বেশ কিছু দেশ। পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে ইতিমধ্য়েই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তুরস্কও সেই চুক্তিতে শামিল হতে আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। ওই যুক্তি অনুযায়ী, সহযোগী কোনও দেশের উপর আক্রমণ নেমে এলে, একযোগে বাকিরা তার মোকাবিলা করবে। (Islamic NATO)

Bloomberg জানিয়েছে, আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো দেশকে নিয়ে যেমন NATO তৈরি হয়েছে, তেমনই পৃথক একটি প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তোলার প্রস্তুতি এই মুহূর্তে তুঙ্গে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে তুরস্ক। সেই মর্মে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। শীঘ্রই ওই চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হবে, যা পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরে ক্ষমতার ভারসাম্যকে অন্য পথে চালিত করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। (Defence Pact)

সম্ভাব্য এই প্রতিরক্ষা জোটকে কেউ কেউ ‘ইসলামিক NATO’ বলেও উল্লেখ করছেন। এতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ কাশ্মীর সমস্যার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে তুরস্ক। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিন ব্যাপী যে ‘সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ’ চলে, তাতে পাকিস্তানকে সাহায্য়ও করে তারা। পাকিস্তানকে তারা ৩৫০টি ড্রোন এবং অপারেটরও সরবরাহ করেছিল। ভারতের বিরুদ্ধে তুরস্কের Baryraktar TB2 এবং YIHA ড্রোন ব্যবহারও করে পাকিস্তান। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধজাহাজও তৈরি করছে তুরস্ক। F-16 যুদ্ধবিমানগুলিকে উন্নততর করে তুলতেও খামতি রাখছে না তারা। সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহই নয় শুধু, পাকিস্তানি সেনাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। আঙ্কারার থিঙ্কট্য়াঙ্ক সংস্থা TEPAV-এর কৌশলী নিহাত আলি ওজকান জানিয়েছেন, তুরস্ক এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ এবং পৃথক প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে তারা। পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র, তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। টাকা জুগিয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করার দায়িত্ব সৌদি আরবের। 

আমেরিকা নেতৃত্বাধীন NATO-রও সদস্য তুরস্ক। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প NATO-য় নিজেদের সৈন্যসংখ্যা বেশ খানিকটা কমিয়েছেন। আর আমেরিকার পরই NATO-য় সবচেয়ে বেশি সৈনিক রয়েছে তুরস্কের। আমেরিকা এই মুহূর্তে নিজের স্বার্থরক্ষায় উদ্যোগী। সেই সঙ্গে ইজ়রায়েলকেও সুরক্ষা দিয়ে আসছে তারা। এই মুহূর্তে পশ্চিম এশিয়ার যা পরিস্থিতি, তাতে শত্রু ও বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে বিভিন্ন দেশ। সেই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক NATO’ বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির খুঁটিনাটি তথ্য প্রকাশ করা না হলেও, চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনে পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে সৌদি আরব। একজোট হয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবে দুই দেশ। এক দেশের উপর হামলা নেমে এলে, তা অন্য দেশের উপর হামলা হিসেবে ধরা হবে এবং তারা সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। NATO-র ৫ নম্বর বিধিতেও এমন নীতি লিপিব্ধ রয়েছে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks