June 3, 2026
531297c7fa4d7f1e424162ae8b36bc771776062707339170_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি : ২১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনার পরেও কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন ইরান ও আমেরিকা। কেন তা সম্ভব হল না, তা নিয়ে চলছে বিস্তর কাটাছেঁড়া। এই আবহে ইরানের বিদেশমন্ত্রী দাবি করলেন, আলোচনা চলাকালীন এক ফোন কলেই সমঝোতা-সম্ভাবনা ‘লাইনচ্যুত’ হয়ে পড়ে। কিন্তু, কে কাকে সেই ফোন করেছিলেন ? কী-ই বা বলেছিলেন ? সেকথা খোলসা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘাচি। 

কে কাকে করলেন ফোনকল ?

ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা ও ইরান। কিন্তু, কোনও সমঝোতায় না পৌঁছেই ইসলামাবাদ ছাড়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের নেতৃত্বাধীন টিম। এরপর আজ এনিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘাচি। তিনি লিখেছেন, ‘মিটিং চলাকালীন ভান্সকে নেতানিয়াহুর (ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু) ফোন আমেরিকা-ইরানের সমঝোতার ফোকাস ইজরায়েলের স্বার্থে রূপান্তরিত করে। যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা যেটা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে বসে সেটাই পেতে চেয়ছিল।’

২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক। কিন্তু বেরোয়নি কোনও সমাধান সূত্র। ফলে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলার মাঝে, পাকিস্তানে আলোচনার টেবিলে বসলেও, নিষ্ফলাই রয়ে গেছে আমেরিকা ও ইরানের শান্তি বৈঠক। এ প্রসঙ্গে জে ডি ভান্স বলেছেন, “দুঃসংবাদ এটাই যে আমরা চুক্তি নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারিনি। আমার মনে হয়, এটা আমেরিকার কাছে যত বড় না দুঃসংবাদ, তার থেকে অনেক বেশি ইরানের কাছে।” একইভাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, “২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যবধান থেকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমাদের আলোচনা কোনও চুক্তির রূপ নিতে পারেনি।”

এদিকে বৈঠক নিস্ফলা হতেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে হুঙ্কার ছেড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “আমরা মাইন সরাতে সেখানে পাঠিয়েছি। আমরা স্ট্রেট (হরমুজ প্রণালী)কে পরিষ্কার (খোলার চেষ্টা) করছি। এর সঙ্গে আমরা আলোচনাও চালাচ্ছি। তাদের (ইরান) সঙ্গে চুক্তি হল বা হল না, তাতে কিছু যায় আসে না।” পাল্টা ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি, এমন কিছু করা হলে তার মারাত্মক ফল হবে। এরই মধ্যে গতকাল হরমুজ প্রণালী দিয়ে একাধিক জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। 

শনিবার ইসলামাবাদে হওয়া শান্তি বৈঠকের ওপর নজর ছিল গোটা বিশ্বের। কিন্তু বৈঠকের আগেই যুদ্ধজাহাজ, সেনা ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে, আমেরিকার আক্রমণে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতা তাঁর ছেলে মোজতবার ছবি দেওয়া ব্যাজ লাগিয়ে শান্তি বৈঠকে যোগ দেন ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ।

অর্থাৎ শান্তি বৈঠকে বসলেও, নিজেদের অবস্থানে অনমনীয়তার আভাস দু’পক্ষের তরফেই মিলেছিল ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks