Credit Card Traps : ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলি জানা। কারণ, আপনার অজান্তেই ক্রেডিট কার্ডের (Credit Card Charges) গোপন খরচ ফাঁকা করছে আপনার পকেট। জেনে নিন, কোন বিষয়গুলি না জানলে ক্রেডিট কার্ড বাবদ আপনার খরচ বেড়েই যাবে।
কেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি আমরা
বর্তমানে অনলাইন থেকে অফলাইন সবেতেই কেনাকাটায় ছাড় পাওয়া যায় ক্রেডিট কার্ডে। ক্যাশব্যাক, আকর্ষণীয় অফারের কারণে এই কার্ড এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত সুবিধাজনক মনে হলেও এই ক্রেডিট কার্ডই অনেক সময় আপনাকে ঋণের জালে জড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা অনেকেই ভাবেন তারা শুধু সেটুকুই খরচ করছেন যা তারা সোয়াইপ করছেন। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে লুকিয়ে থাকে একগুচ্ছ অতিরিক্ত বা লুকানো খরচ, যা ধীরে ধীরে আপনার পকেট খালি করে দিতে পারে।
জেনে নিন, ক্রেডিট কার্ডের এমন কিছু বড় খরচ, যা আপনার অজান্তেই বিল বাড়াচ্ছে
১ বর্তমানে আকাশছোঁয়া সুদের হার
একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় ফাঁদ হল এর সুদের হার। অনেকেই মাসের শেষে পুরো টাকা শোধ না করে শুধু ‘মিনিমাম ডিউ’ বা ন্যূনতম ঋণের টাকা শোধ করেন। মনে রাখবেন, ন্যূনতম টাকা মেটালে আপনি শুধু লেট ফাইন থেকে বাঁচবেন, কিন্তু বাকি পুরো বকেয়া টাকার ওপর চড়া সুদ বসতে শুরু করবে। ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক সুদের হার ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ছোট একটি বকেয়া টাকাও দ্রুত বিশাল ঋণের পাহাড়ে পরিণত হয়।
২ লেট পেমেন্ট ফি ও জিএসটির কারণে খরচ
এই ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডে আপনাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না দিলে মোটা অঙ্কের লেট পেমেন্ট ফি তো দিতেই হয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত ১৮% জিএসটি (GST)। ফলে বকেয়া বিলের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়।
৩ ক্যাশ অ্যাডভান্স বা এটিএম থেকে টাকা তোলা
অনেক সময় আমরা জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম (ATM) থেকে নগদ টাকা তুলে নিই। এটা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ, সাধারণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিল মেটানোর জন্য কয়েকদিন সময় পাওয়া গেলেও, এটিএম থেকে টাকা তোলার মুহূর্ত থেকেই চড়া সুদ গোনা শুরু হয়ে যায়। এর পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ‘ক্যাশ অ্যাডভান্স ফি’-ও কাটা হয়।
৪ এর বাইরেও রয়েছে অন্যান্য ট্রানজাকশন ফি
আন্তর্জাতিক লেনদেন ফি: অনেকে দেশের বাইরে বা কোনও আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করলে ১.৫% থেকে ৩% পর্যন্ত ফরেক্স মার্কআপ ফি দিতে হতে পারে।
ওভার-লিমিট চার্জ: এই ক্ষেত্রে কার্ডের নির্ধারিত খরচের সীমা পেরিয়ে কেনাকাটা করলে ব্যাঙ্কগুলি মোটা অঙ্কের জরিমানা বা ওভার-লিমিট ফি ধার্য করে।
বার্ষিক ফি : অনেক কার্ডে প্রথম বছর কোনও চার্জ না থাকলেও পরবর্তী বছর থেকে অলক্ষ্যে বার্ষিক রিনিউয়াল ফি কেটে নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ক্রেডিট কার্ডের এই লুকনো খরচগুলি একবারে বোঝা যায় না, কারণ এগুলি ছোট ছোট কিস্তিতে যোগ হতে থাকে। কিন্তু মাসের শেষে যখন পুরো বিলটি সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মাথায় হাত পড়ে।
ঋণের জাল থেকে বাঁচার উপায়:
১ পুরো বিল মেটান: সবসময় চেষ্টা করুন শেষ তারিখের মধ্যে ‘টোটাল ডিউ’ বা পুরো বিলের টাকা মিটিয়ে দিতে।
২ শর্তাবলী ভালো করে পড়ুন: কার্ড নেওয়ার আগে বা ব্যবহারের সময় তার নিয়ম ও শর্তাবলী এবং চার্জের তালিকা মন দিয়ে পড়ে নিন।
৩ অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন: ক্রেডিট কার্ড আছে বলেই সাধ্যের অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা থেকে বিরত থাকুন।
আরও পড়ুন: ১০০ টাকা করে কাটবে PhonePe, কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নতুন নিয়ম ?
ABI News: ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমাল এসবিআই,১৬ মে থেকে কার্যকর হবে নতুন সুদের হার
