নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর পরই ইরানের সঙ্গে ‘যৌথ উদ্যোগ’! এবার বড় ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীকে সুরক্ষিত রাখতে ইরানের টোল ফি আদায়ে শুধু সায় নেই তাঁর, বরং যৌথ ভাবে হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানালেন। হরমুজ থেকে বড় অর্থ আসতে পারে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার ইরানের টোল ফি বসানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বললেন, ‘সুন্দর জিনিস’। (Donald Trump on Hormuz Toll Fee)
৪০ দিনের মাথায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হয়েছে আমেরিকার। আপাতত দু’সপ্তাহ আক্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। শর্তাবলী পর্যালোচনা করে দেখে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির দিকে এগনো হবে। সেই আবহে আমেরিকার ABC News জানায়, হরমুজকে সুরক্ষিত রাখতে ইরানের সঙ্গে হাত মেলানোর কথা ভাবছে ট্রাম্প সরকার। আর তার পরই ABC News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প। (Hormuz Toll Fee)
হরমুজে টোল ফি বসানোয় আপত্তি নেই ট্রাম্পের
হরমুজে টোল ফি বসানোয় সায় আছে কি না জানতে চান সাংবাদিক জনাথান কার্ল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যৌথ বিনিয়োগের কথা ভাবছি। হরমুজকে সুরক্ষিত রাখার এটাও একটা উপায়—অন্য অনেকের থেকে হরমুজকে বাঁচানোর উপায়। এটা বেশ সুন্দর একটা জিনিস।”
৪০ দিনের মাথায় যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টোল ফি দিতে হবে বলে বার্তা গিয়েছে একাধিক জাহাজে। হরমুজে টোল বসানোর পরিকল্পনা আড়াল করেননি Iran Oil, Gas and Petrochemical Products Exporters’ Union-এর মুখপাত্র হামিদ হোসেনি. জাহাজে বোঝাই প্রত্যেক তেলের ব্যারেলে ১-২ ডলার করে টোল ফি নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাহলে কি ইরানের সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছে আমেরিকা, উঠছে প্রশ্ন।
This morning, I asked President Trump if he’s okay with the Iranians charging a toll for all ships that go through the Strait of Hormuz, he told me there may be a Joint US-Iran venture to charge tolls:
“We’re thinking of doing it as a joint venture. It’s a way of securing it —…
— Jonathan Karl (@jonkarl) April 8, 2026
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেই কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে টোল ফি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, জাহাজগুলির কাছ থেকে টোল ফি আদায় নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ীপক্ষ হরমুজে জাহাজের উপর থেকে টোল আদায় করতে পারে বলে সপ্তাহের শুরুতেও মন্তব্য করেন। এদিন যুদ্ধবিরতির পর আমেরিকা এবং ইরান, দুই দেশই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। আর তার পরই ইরানের সঙ্গে ‘যৌথ বিনিয়োগে’ আগ্রহ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প।
কী পরিকল্পনা ট্রাম্পের?
ইরানের বিরুদ্ধে এদিন আমেরিকার জয়ও ঘোষণা করেন ট্রাম্প। বলেন, “আমরাই বিজয়ী। আমরা জিতেছি, ঠিক আছে? ওরা সামরিক ভাবে পরাজিত। শুধু মনস্তত্ব নিয়ে খেলে ওরা যে, ‘আমরা সমুদ্রে মাইন বসাব’। কোথায় টোল ফি বসাব, তা ভেবে রেখেছি আমরা।”
পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রোজ সেখান দিয়ে ১২০টি জাহাজ যাতায়াত করে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই টোল ফি নিতে শুরু করেছে ইরান। বড় জাহাজগুলিকে ছাড়তে তারা ২ মিলিয়ন ডলারও নিচ্ছে বলে খবর উঠে আসছে। সেই নিরিখে রোজ প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।
