নয়াদিল্লি: চলতি মরশুম শুরুর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে, দুরন্ত ফর্মে ছিলেন ফিন অ্যালেন (Finn Allen)। তবে আইপিএলের (IPL 2026) শুরুর দিকে প্রচুর প্রত্যাশা থাকলেও, কেকেআরের হয়ে সেই প্রত্যাশাপূরণ করতে পারছিলেন না তিনি। বেশ কিছু ম্যাচ দলের বাইরেও বসতে হয় তাঁকে। তবে দলে ফিরেই গত ম্যাচে বেশ ছন্দে দেখিয়েছিল তাঁকে। আর দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে (DC vs KKR) তো নিজের প্রতিভার নিদর্শন দিলেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে দলকে ম্যাচ জেতালেন কিউয়ি ক্রিকেটার।
ম্যাচশেষে স্বাভাবিকভাবেই অ্যালেনকে ম্যাচ সেরা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কীভাবে এল এই সাফল্য? কীভাবে ঘুরল ভাগ্য? শুরুর দিকে কোথায় গলদ হচ্ছিল? ম্যাচের পর অ্যালেন নিজেই জানান, ‘মাঝেমধ্যে দলের বাইরে বসতে হলে, সেটা কিন্তু আপনার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে সাহায্য করে। দলের বাইরে গিয়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা হওয়া যায় অনেক সময়। সত্যি বলতে আমি নিজের ওপর শুরুর দিকে অহেতুকই বাড়তি চাপ তৈরি করে ফেলছিলাম। তাই ওই চাপ থেকে খানিকটা সরে গিয়ে, ঠান্ডা মাথায় বসে সবটা ভেবে ফিরে আসার সময় পাওয়ায় সুবিধাই হয়েছে।‘
আরও পড়ুন:- অনবদ্য বোলিংয়ের পর ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী শতরান, দিল্লিকে দুরমুশ করে চতুর্থ জয় কেকেআরের
একই পিচে যেখানে দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটারদের কার্যত ঘোল খাওয়ায় কেকেআর স্পিনাররা, সেই পিচেই দিল্লির স্পিনারদের শাসন করেন অ্যালেন। তবে শুরুটা খানিকটা অঅ্যালনচিত ভঙ্গিমায় দেখেশুনেই করেছিলেন কেকেআর ওপেনার। ব্যাটিংয়ের সময় তাঁর মাথায় কী চলছিল? ম্যাচে নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের ব্যাটিংয়ে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছি। শুরুতেই আমাদের দুই উইকেট পড়ে গিয়েছিল, তাই দায়িত্ব নিয়ে দলকে জেতানোই আমার লক্ষ্য ছিল। শুরুতে খানিকটা থিতু হওয়ার প্রয়োজন ছিল। অক্ষর খুবই ভাল বল করে আমার বেঁধে রেখেছিল। তবে আমি চেষ্টা করছি যাতে আরও দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে পারি। ওয়াটসন এবং অভিষেকের সঙ্গে নেটে কাজ করেছি যাতে কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে টিকে থাকতে পারি। নিজেকে খানিকটা সময় ও সুযোগ দিতে পারি। আগের দিকে কয়েকটা ম্যাচে শুরুটা ভাল করেও আমি অত্যন্ত বিরক্তিকরভাবে আউট হয়ে গিয়েছিলাম। তবে দিনের শেষে এখানে ব্যক্তিগত খানিকটা সাফল্য পেয়ে ভালই লাগছে।’
ফিন অ্যালেন স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে দিল্লির বিরুদ্ধে তিনি ক্রিজে টিকে থাকার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। মুশকিল পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরে, ম্য়াচকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্যপূরণ করতে পেরে কিন্তু ক্রিকেটার সন্তুষ্ট।
”
