নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহেই ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে সামরিক চুক্তি নিয়ে বিশদ তথ্য সামনে এল, যাতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন পড়লে দুই দেশই পরস্পরের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ওই সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সেটি কার্যকর হয়েছে। আইনি বিষয় নিয়ে রাশিয়ার যে ওয়েবসাইট রয়েছে, শুক্রবার তাতে চুক্তি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে। ওই চুক্তি বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইন পাস করে রাশিয়া। (India Russia Defence Deal)
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক চুক্তি
ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত Indo-Russian Reciprocal Exchange of Logistics Agreement (RELOS) অনুযায়ী, একে অপরের দেশে একসঙ্গে ৩০০০ বাহিনী, পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ, ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রাখা যাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত। দুই দেশের সম্মতি থাকলে, আরও পাঁচ বছর সময় বৃদ্ধি করা যেতে পারে। রাশিয়ার বিদেশ বিভাগ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ভেয়াচেস্ল্যাভ নিকোনভও বিষয়টিতে সিলমোহর দিয়েছেন। (India-Russia Defence Pact)
পারস্পরিক সহযোগিতার উল্লেখ
দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে, বিশেষ করে রাশিয়া থেকে প্রাপ্ত ভারতের সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য সেগুলি মোতায়েন রাখার ক্ষেত্রে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং মানবিক অভিযানের উল্লেখও রয়েছে চুক্তিতে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এবং রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের যুদ্ধ চলাকালীন এই চুক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ শুধুমাত্র সামরিক সরঞ্জাম এবং বাহিনী মোতায়েনের কথাই নেই চুক্তিতে, পরস্পরের সরকারি রসদ ব্যবহারের উল্লেখও রয়েছে।
সরকারি রসদ ব্যবহারেও সায়
সরকারি রসদ বলতে বেশ কিছু পরিষেবার উল্লেখ রয়েছে। যুদ্ধজাহাজের ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। মেরামতিও করানো যাবে। জল, খাবার, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের কথাও রয়েছে। যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, এ্যারোনটিক্যাল ডেটা, উড়ান, সেনার নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার, বিমান রাখা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে পারে দুই দেশই। বিমানের জ্বালানি, লুব্রিক্যান্টস, বিকল যন্ত্রপাতি বদলে নেওয়া যাবে।
আরও মজবুত সম্পর্ক
ওই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত এবং রাশিয়া পরস্পরের বায়ুসেনাঘাঁটি, বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। পরস্পরের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বাহিনীকে সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দুই দেশ। এই চুক্তির দরুণ ভারত রাশিয়ার বিভিন্ন নৌ এবং বায়ুসেনাঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে, সেই তালিকায় রয়েছে মেরু অঞ্চলের ঘাঁটিও। যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগে ত্রাণকার্য এবং যৌথ অভিযানের পথও প্রশস্ত করেছে ওই চুক্তি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে আয়োজিত ১৮তম BRICKS সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তার আগে চুক্তিতে অনুমোদনকারী আইনে সই করে দিয়েছেন তিনি।
