বেজিং : পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হয়নি। হরমুজ প্রণালীতে এখনও অচলাবস্থা চলছে। কিন্তু, যুদ্ধ বিরতি জারি রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। ইজরায়েলের সঙ্গে জুটি বেঁধে শুরু করা ইরানের ওপর লাগাতার হামলায় হঠাৎ বিরতির কারণ নিয়ে এবার মন্তব্য করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিন থেকে ফিরছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতিতে তিনি সম্মত হয়েছেন পাকিস্তানের ‘উপকার’ করার জন্য। তাঁর কথায়, তিনি এটাকে সমর্থন করতেন না, কিন্তু অন্য দেশের অনুরোধে তা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “অন্য একটি দেশের অনুরোধে আমরা যুদ্ধবিরতি করেছি। আমি এর পক্ষে থাকতাম না, কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি অনুগ্রহ করে এটা করেছি। ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী অসাধারণ মানুষ।”
তবে, ইরানের সম্প্রতি পাঠানো শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রথম লাইন পড়েই তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। কারণ, তেহরান তাদের পারমাণিক কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত গ্যারান্টি দেয়নি বলে মত তাঁর। ট্রাম্প বলেন, “আমি ওটা (শান্তি প্রস্তাব) দেখেছিলাম। আর আমার যদি প্রথম বাক্য পছন্দ না হয়, আমি সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিই।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ইরানের মধ্যস্থতাকারী দাবি করেছেন যে, মার্কিন হামলায় তাদের পারমাণবিক পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং তারা পারমাণবিক জ্বালানি পুনরুদ্ধার করার মতো অবস্থায় নেই।”
ইরানে সঙ্গে টানা চলতে থাকা যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান নেতা বেশ কিছুটা দুর্বল অবস্থায় চিন সফরে গিয়েছিলেন। ইরান নিয়ে বড় কোনও খবর ছাড়াই ফিরেও গেছেন। শুক্রবার, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেজিংয়ে হংনানি গার্ডেনে ছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা ইরান নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এক্ষেত্রে আমাদের অনুভূতি একইরকম। আমরা এটা শেষ করতে চাই। আমরা চাই না, ওদের পরমাণু অস্ত্র থাকুক। আমরা চাই প্রণালী খোলা থাক। আমরা চাই ওরা (ইরান) এটা বন্ধ করুক, কারণ সেখানকার পরিস্থিতিটা খুবই অদ্ভুত, কিছুটা পাগলামিপূর্ণ। এবং এটা ঠিক নয়, এমনটা হতে পারে না।”
এদিকে, হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানকে রাজি করানোর জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে চিনকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপ দেওয়ার পর ট্রাম্প বলেন যে, এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেজিংয়ের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় না ইরানের ব্যাপারে আমাদের কোনও সাহায্যের প্রয়োজন আছে,” এবং তিনি বলেন যে আমেরিকা “যে কোনও উপায়েই হোক” এই যুদ্ধে জিতবে।
