Government Medicine Policy : ভুল করেও এই কাজ করা যাবে না। মোদি সরকার আনল নতুন মেডিসিন পলিসি (Medicine Policy) । এবার থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট এই ওষুধগুলি কেনা যাবে না দোকান থেকে। জেনে নিন, কোন কোন ওষুধ নিয়ে এই কড়া নিয়ম করেছে সরকার। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ?
কী ওষুধ কেনা যাবে না ?
অনেক ক্ষেত্রেই আমরা করে থাকি এই ভুল। পরবর্তীকালে যার মাশুল ভুগতে হয় সমাজকে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে মেডিসিন কিনলে তাহলে ভুগতে হতে পারে আপনাকে। নতুন নিয়ম অনুসারে, ১২ শতাংশের বেশি ইথাইল অ্যালকোহল যুক্ত ওষুধের তৈরি ও বিক্রির নিয়মে বড়সড় বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে এই ধরনের ওষুধ আর সাধারণ নিয়মে তৈরি করা যাবে না। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেকোনও ওষুধের দোকান থেকে এই ধরনের ওষুধ সহজে কেনাও যাবে না।
কী জানানো হয়েছে সরকারের তরফে
এবার মেডিসিন পলিসি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ওষুধের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকেই এটিকে নেশার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। যে কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে এই ওষুধগুলিকে ‘ড্রাগস রুলস ১৯৪৫’-এর Schedule H1-এর আওতাভুক্ত করেছে । পাশাপাশি, ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট ১৯৪০’-এর অধীনে এগুলিকে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মধ্যে আনা হয়েছে।
কোন-কোন ওষুধে বিধিনিষেধ ?
মনে রাখবেন, নতুন এই নিয়মটি খাওয়ার ওষুধ বা লিক্যুইডের ওপর কার্যকর হবে। যে ওষুধগুলিতে ১২ শতাংশের বেশি ইথাইল অ্যালকোহল রয়েছে, যেগুলি ৩০ মিলিলিটারের (30 ml) বেশি বড় প্যাকেজে বিক্রি হয়, সেগুলির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ঘুর পথ দিয়ে চলত কারবার
অতীতে ভারতে মেডিসিনের নিয়মে ছাড়পত্রের কারণে এলাচ, আদা বা অন্যান্য সুগন্ধী উপাদান দিয়ে তৈরি বিশেষ কিছু টিংচার (Tincture) ও ভেষজ তরল ওষুধগুলির (Herbal Liquid Preparations) লাইসেন্সের প্রয়োজন হত না। এই সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু প্রস্তুতকারক এই ওষুধগুলিতে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইথাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করত। সরকারের মতে, এরফলে এই নিয়মের অছিলায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ তৈরি করছিল। এবার থেকে যা আর করা যাবে না।
নতুন নিয়মে কী কী বদল আসতে চলেছে ?
সরকারি এই নতুন সংশোধনীর পর এই ধরনের ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে..
লাইসেন্স বাধ্যতামূলক : লাইসেন্স ছাড়া এই ধরনের কোনও ওষুধ আর তৈরি বা বিক্রি করা যাবে না।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন: ওষুধগুলি Schedule H1-এ চলে যাওয়ায়, শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের (Registered Doctor) প্রেসক্রিপশন দেখালেই এই ওষুধ কেনা যাবে।
রেকর্ড রাখতেই হবে: কারা এই ওষুধ কিনছে সেই বিষয়ে ওষুধের দোকানগুলিকে এই ধরনের প্রতিটি ওষুধ বিক্রির সম্পূর্ণ রেকর্ড বা খতিয়ান বজায় রাখতে হবে।
নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ: এই বিষয়টা নতুন নিয়মে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এই ওষুধগুলি শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিউটিক্যাল চেইনের মাধ্যমেই সরবরাহ করা যাবে।
কবে থেকে চালু হচ্ছে এই নিয়ম ?
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে , গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬ মাস পর থেকে এই নতুন নিয়মটি দেশজুড়ে কার্যকর হবে। এর ফলে ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতারা নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের ?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তদন্তে উঠে এসেছে য, আদা বা এলাচের মতো উপাদান দিয়ে তৈরি কিছু টিংচার মূলত হজমের সমস্যা বা অন্যান্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, কিছু কিছু পণ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইথাইল অ্যালকোহল মেশানো হচ্ছিল। ফলস্বরূপ, অনেকেই এই ওষুধগুলিকে নেশার সামগ্রী বা মদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। ওষুধের এই বিপজ্জনক অপব্যবহার রুখতেই সরকার অবশেষে এই কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন : ঘরে পুরনো ৫০, ১০০ টাকার নোট থাকলেই আপনি লাখপতি ! পেতে পারেন বিপুল অর্থ
