নয়াদিল্লি: সপ্তাহান্তেই কলম্বোতে ভারত বনাম পাকিস্তানের (IND vs PAK) মহাদ্বৈরথ। তবে দিনকয়েক আগে পর্যন্তও এই ম্যাচ আয়োজন ঘিরে প্রবল সংশয় ছিল। পাকিস্তান সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল তারা দলকে ভারত ম্যাচ বয়কট করার অনুমতি দিয়েছে। তারপরেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। অবশ্য পাকিস্তান যে শেষবেলায় সিদ্ধান্ত বদল করতে পারে, তেমন সম্ভাবনা ছিলই। সেইমতোই সিদ্ধান্ত বদলায় পিসিবি। দীর্ঘ নাটকের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) ম্যাচ খেলার জন্য রাজি হয় তারা।
পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর তাদের পাশে দাঁড়াতেই তারা নাকি ভারত ম্যাচ বয়কট করছে। তবে খোদ বাংলাদেশ বোর্ড ক্রিকেট খেলীয় সব দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানকে এই ম্যাচ খেলার জন্য অনুরোধ করে। আইসিসির কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরেই পাকিস্তান সরকার ভারত ম্যাচ খেলার জন্য সম্মতিও দেয়। তবে এই ম্যাচ আয়োজন ঘিরে অনিশ্চয়তার ফলে ভারতীয় দলের উপর কি কোনওরকম প্রভাব পড়েছে? উত্তর না।
কলম্বোতে আয়োজিত হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মেগা দ্বৈরথ। সেই ম্যাচ নিয়ে ভারতীয় সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতের দাবি মাঠের বাইরের আলোচনাকে কখনই তাঁরা ভারতীয় সাজঘরে ঢুকতে দেননি। টেন দুশখাতে বলেন, ‘আমরা এই নিয়ে কোনও আলোচনা করিনি। আমরা ওখানে গিয়ে মাঠে নামার পরেও ওরা যতক্ষণ না মাঠে আসছে, ততক্ষণ ম্যাচ হবে বলেই ধরে রেখেছিলাম। এই নিয়ে সমস্ত রাজনীতি থেকে আমরা নিজেদেরকে দূরে রাখতে চেয়েছিলাম। আমি দুই দেশের আবেগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাভেদ নিয়ে তো আগেই বলেছি। তবে আমার মতে খালি ক্রিকেটীয় দিকটাতেই নিজেদের ফোকাস রাখাটা খুব জরুরি।’
অবশ্য পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে খানিকটা সুবিধা পেতে পারে বলেই মনে করছেন ভারতীয় সহকারী কোচ। তাঁর মতে, ‘আমরা কলম্বোতে গিয়ে এই ম্যাচ খেলব। পাকিস্তান তো দুই সপ্তাহ ধরে ওখানেই রয়েছে। তাই আমাদের বেশ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। তবে আমরা সামনের সপ্তাহের ওই ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
মাঠের বাইরের নাটক, জল্পনা-কল্পনা সব মিটেছে। এবার অপেক্ষা দ্বীপরাষ্ট্রে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে। সেই ম্যাচে ভারত না পাকিস্তান, কোন দল জয়ের হাসি হাসে সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।
