May 26, 2026
6dd87e50f66da0003e8513541866c4cc1770565447915338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: বছরে একবার ভাল করে সাফ-সাফাই। চারপাশ ঝকঝকে করে তুলতে কোনও খামতি রাখেননি কেউ। ঘষে ঘষে পরিষ্কার করা হয়েছিল গোটা বাড়ি। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ঙ্কর বিপদ হল বাড়ির খুদে সদস্যের। টানা ১৭ দিন ধরে জ্বর ছিল একরত্তি মেয়েটির। হাসপাতালে ভর্তি করতে দেখা গেল, মারাত্মক বিপদ ঘটে গিয়েছে। কোনও রকমে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা গেল শিশুটিকে। (Mold Exposure Affects Girl)

এই মুহূর্তে লুনার নিউ ইয়ারের প্রস্তুতি চলছে চিনে। সেই উপলক্ষে হেনান প্রদেশ থেকে ছ’বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে গ্রামের আদি বাড়িতে এসে পৌঁছয় এক পরিবার। পরিবারের সকলে শহরে থাকেন বলে বাড়িটি ফাঁকাই পড়েছিল দীর্ঘদিন। ধুলোয় ভরেছিল চারিদিক। ছাদে-দেওয়ালে ঝুল ও ছাতা ধরেছিল। ঘরগুলিতে ছিল স্যাঁতসেঁতে ভাব।  সেই মতো ঘষে ঘষে বাড়ি পরিষ্কার করা শুরু হয়। (Brain Eating Mold)

কিন্তু সেই কাজ চলাকালীনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ছ’বছরের মেয়েটি। প্রচণ্ড জ্বর কাবু করে ফেলে তাকে। একটানা ১৭দিন ধরে জ্বর ছিল গায়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেয়েটিকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন সকলে। সেখানে ভাল করে পরীক্ষা হতেই আসল সমস্যা ধরা পড়ে। দেখা যায়, একটি বা দু’টি নয়, মেয়েটির মস্তিষ্কে ২০টির বেশি ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। 

মেয়েটির মস্তিষ্কের ঘুণ ধরা ওই অবস্থা দেখে শিউড়ে ওঠেন চিকিৎসকরাও। শেষ পর্যন্ত কারণ চিহ্নিত করেন হসপিটাল অফ ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, মেয়েটি Aspergillus Fumigatus-এ সংক্রমিত। এটি দ্রুত বর্ধনশীল এক ধরনের ছত্রাক, যা মেয়েটির মস্তিষ্ক খেতে শুরু করে এবং ওই গর্তগুলির সৃষ্টি করে। সরাসরি নার্ভাস সিস্টেমকে কাবু করে ফেলে Aspergillus Fumigatus. দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে প্রাণ চলে যেতে পারে। 

চিকিৎসকরা জানান, বাড়িতে সাফ-সাফাই চলাকালীন মাস্ক ছিল না মেয়েটির মুখে। ছাতা পড়ে যাওয়া দেওয়াল থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে তার শরীরে ক্ষতিকর ওই ছত্রাক প্রবেশ করে। একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল শিশুটি। তবে এখন সে সেরে ওঠার দিকে এগোচ্ছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল।  রোগ প্রতিরোধ শক্তি যেহেতু সম্পূর্ণ ভাবে গড়ে ওছে না, তাই সাফ-সাফাইয়ের কাজে শিশুদের শামিল না করা উচিত বলেও মত চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাড়িতে সাফ-,সাফাই চললে শিশুদের দূরে রেখে আসা উচিত। বাড়ি পরিষ্কার হয়ে গেলে যদি ফিরে আসে তারা, সেক্ষেত্রেও মুখে মাস্ক থাকা জরুরি। লম্বাহাতার জামা পরিয়ে রাখতে হবে। বাড়ি পরিষ্কারের সময় জানলা-দরজা খুলে রাখার পাশাপাশি, সরাসরি ঝাঁট না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে এতে ধুলো-ছত্রাক উড়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 

Aspergillus Fumigatus পরিবেশের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়। এমনকি বাতাসেও মিশে থাকে। খালি চোখে সেগুলিকে ধূসর-সবুজ বা নীলাভ-সবুজ দেখায়। উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে একেবারে ফুলেফেঁপে ওঠে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে প্রথমে শ্বাসনালী বা কানের ছিদ্রপথে বাসা বাঁধে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত হ্রাস পায়, ততই বংশবৃদ্ধি ঘটে ছত্রাকটির। ফুসফুস, চোখেও থাবা বসায়। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মস্তিষ্কেও। সেক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত চিকিৎসা না হলে বিপদ হতে পারে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks