সৌমিত্র রায়, হাওড়া: হাওড়া স্টেডিয়ামে নিত্যদিন ইভিনিং ওয়াকে যেতেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়। আর সেই সময় স্টেডিয়ামে থাকতে পারতেন না কেউ। প্র্যাক্টিস বা খেলা চললেও, তা হয় বন্ধ রাখতে হতো, না হলে আগেই শেষ করতে হতো। তৃণমূল আমলে এটাই ছিল অলিখিত নিয়ম। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে হাওড়ায়। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক।
হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সচিব দেবব্রত আচার্য বলেছেন, ‘মন্ত্রীবাবু যেই ঢুকলেন সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে বেরিয়ে যেতে হতো।’ একই অভিযোগ হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সচিব অসীম কুণ্ডুরও। বলেছেন, ‘রেফারিকে আমাদের বলতে হতো, একটু তাড়াতাড়ি করে ম্যানেজ করুন।’
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় হাঁটতে আসবেন। সেইজন্য আগে থেকেই ফাঁকা করে দেওয়া হত হাওড়া স্টেডিয়াম! খেলার মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হত খেলোয়ারদেরই! পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এটাই নাকি ছিল অলিখিত নিয়ম! এবার এমনই অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন সমবায়মন্ত্রী ও বর্তমানে হাও়ড়া মধ্য কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে।
তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পূর্বতন সরকারের আমলে সরকারি স্টেডিয়াম, যে হাওড়া স্টেডিয়ামে রোজ বিকেলে শরীরচর্চার জন্য রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় হাওড়া স্টেডিয়ামে হাঁটতেন। যে সময় তিনি এই হাওয়া স্টেডিয়ামে হাঁটতেন, সেই সময় এই গোটা হাওড়া স্টেডিয়ামকে খালি করে দেওয়া হতো।
হাওড়া স্টেডিয়াম, যার পোশাকি নাম কিংবদন্তি ফুটবলার শৈলেন মান্নার নামে রয়েছে! সেখানেই উঠেছে এই মারাত্মক অভিযোগ! হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সচিব অসীম কুণ্ডু বলছেন, ‘হাওড়া জেলায় যখন কোনওভাবে এই মাঠটা একটুখানি পেয়েছি ২-১ দিনের জন্য সেখানে তখন কী হতো, বেলা চারটের আগে আমাদের মাঠ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতেন। তখন অরূপ রায় হাঁটবেন। ওনার যাঁরা সঙ্গীসাথীরা আমাদের আগে বলে দিত চারটের মধ্যে খেলা শেষ করতে হবে। স্টেডিয়াম পুরো ফাঁকা থাকত। তিনি হাঁটতেন আর তাঁর সঙ্গে আরও লোকজন আছেন, তাঁরা একসঙ্গে হাঁটতেন। এটা মোটামুটি সারাবছর চলত।’
অভিযোগ, এটাই ছিল হাওড়া স্টেডিয়ামের রোজনামচা! তবে এখানেই শেষ নয়! কলকাতা লিগের বেশ কিছু ম্যাচ হতো এই হাওড়ার শৈলেন মান্না স্টেডিয়ামে! অন্যান্য স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটে-তিনটে নাগাদ লিগের ম্যাচ শুরু হলেও, হাওড়া স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করতে হতো ম্যাচ! কারণ, মন্ত্রী অরূপ রায় ইভিনিং ওয়াকে আসবেন। তাই তার আগেই ফাঁকা করতে হতো স্টেডিয়াম! উঠেছে এমনই অভিযোগ।
হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সচিব অসীম কুণ্ডু বলছেন, ‘রেফারিকে আমাদের বলতে হতো, একটু তাড়াতাড়ি করে ম্যানেজ করুন। দুটোর মধ্যে শুরু করতে হতো। এবার প্রত্যেকটা টিম এই দুপুর গরমে খেলতে রাজি হতো না। যার জন্য এই মাঠটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি।’
শুধু ফুটবল নয়, হাওড়া স্টেডিয়ামের একটা অংশে চলে ক্রিকেট প্র্যাক্টিসও! সেখানও অভিজ্ঞতাটা একই! হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট সচিব দেবব্রত আচার্য বললেন, ‘উনি এলেই আমাদেরকে বেরিয়ে যেতে হতো। বাচ্চারা হয়তো প্র্যাক্টিস করছে, প্র্যাক্টিস করতে করতে অরূপ দা যেই এসে গেলেন, মন্ত্রীবাবু যেই ঢুকলেন সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরকে বেরিয়ে যেতে হতো। এটা অলিখিতই একটা ছিল চুক্তি। বলাই ছিল যে তার আগে তোমরা যত খুশি প্র্যাক্টিস করে নাও, কিন্তু উনি আসলেই বেরিয়ে চলে আসতে হবে।’
যদিও রাজ্যের প্রাক্তন সমবায়মন্ত্রী ও বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে। তিনি বললেন, ‘না এটা ঠিক নয়। যেদিন মাঠে খেলা থাকত সেদিন হেলিপ্যাডের মাঠে হাঁটতাম। এই কথাগুলো ঠিক নয়, একেবারে ঠিক নয়। মিথ্যে কথা।’
হাঁটার সময় স্টেডিয়ামের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হত, কেউ ঢুকতে পারত না? অরূপ বললেন, ‘না না, ওসব বাজে কথা। সিনিয়র সিটিজেনরা হাঁটত তো। অনেকেই হাঁটত। বাইরের লোকেরা হাঁটত, ক্রিকেট খেলত ছেলেরা। বাজে কথা, অতিরঞ্জিত। আমি একা কখনই হাঁটাতাম না।’
আরও পড়ুন: কিংবদন্তি পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালনে ছেলে প্রণব রায়কেই ডাকতে ভুলে গেল সিএবি! সমালোচনার ঝড়
