কলকাতা : জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, শনির সাড়েসাতি বা এই সাড়ে সাত বছরকে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়টা ধৈর্য, সংযম, শৃঙ্খলা এবং সংগ্রামের মাধ্যমে সাফল্যের পথ দেখায়। এই সময়কাল একজন ব্যক্তিকে তাঁর ভাল ও মন্দ কাজের জন্য ফল দেয়। জ্যোতিষশাস্ত্র বলে যে, যাঁরা জীবনে শৃঙ্খলাপরায়ণ, কঠোর পরিশ্রম করতে পিছপা হন না, নীচের স্তরের মানুষকে হয়রান করেন না এবং অসৎ সঙ্গ এড়িয়ে চলেন, তাঁরা শনির সাড়েসাতিতে কম বেদনা পান। দুঃখ এলেও, সুখের ছোঁয়া তার ভারসাম্য করে দেয়।
কোনও ব্যক্তির উপর সাড়েসাতির প্রভাব তাঁর জন্মকুণ্ডলীতে শনির অবস্থানের উপর নির্ভর করে। যদি জন্মকুণ্ডলীতে শনি শুভ হয়, তবে এই সময়টি মঙ্গলজনক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তুলা, কুম্ভ এবং মকর রাশির জন্য সাড়েসাতি অন্যান্য রাশির মতো ততটা বেদনাদায়ক নয়। শাস্ত্র অনুসারে, যাঁরা দান-খয়রাত করেন, দরিদ্রদের সাহায্য করেন, বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করেন এবং ধর্মীয় কার্যকলাপ করেন, তাঁদের উপর শনির আশীর্বাদ থাকে। এরা কঠিন পরিস্থিতিতেও সমর্থন লাভ করেন।
বর্তমানে শনির সাড়ে সাতি কুম্ভ, মীন এবং মেষ রাশিকে প্রভাবিত করছে। ২০২৭ সালের ৩ জুন শনির গোচর ঘটবে। এই দিনে শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করবে। শনির সাড়েসাতি চলাকালীন যাঁরা মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের উচিত প্রতিদিন ভগবান হনুমানের পুজো করা, অভাবীদের সাহায্য করা এবং ক্রোধ ও অহঙ্কার ত্যাগ করা। জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।
এদিকে এবার শনিবারের পাশাপাশি শনি জয়ন্তীতে কেদার যোগও তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষ জমি, সম্পত্তি ও কৃষি থেকে প্রচুর লাভবান হন। শনি জয়ন্তীতে এই যোগের সৃষ্টি হলে তা হবে সোনায় সোহাগা। শনি জয়ন্তীতে এই বিরল সংযোগের কারণে তিন রাশি লাভবান হবে। প্রসঙ্গত, শনিকে কর্মের দাতা বলা হয়। তার কারণ, মানুষের কর্ম অনুযায়ী তিনি ফল দেন। অর্থাৎ, কেউ ভাল কাজ করলে তাঁকে ভাল ফল এবং কেউ খারাপ ফল করলে তাঁকে খারাপ ফল দেওয়া হয়।
ডিসক্লেমার : কোনও রাশির জাতক বা জাতিকার ভাগ্যে কী রয়েছে সেই সংক্রান্ত কোনো মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ জ্যোতিষ সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
