প্রায়শই ক্লান্তি অনুভব করেন? আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করেন? কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও, আপনি কি প্রত্যাশিত সম্মান এবং সাফল্য অর্জন করতে পারছেন না? জ্যোতিষশাস্ত্রে, এই ধরনের অনেক পরিস্থিতি দুর্বল সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রহরাজ হিসেবে বিবেচিত সূর্য একজন ব্যক্তির শক্তি, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং খ্যাতির প্রতীক। তাই, প্রাচীনকাল থেকেই সূর্য উপাসনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে, কিছু যোগাভ্যাস আছে যা শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকরী অনুশীলনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সূর্য নমস্কার, যা ১২টি যোগাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি যোগাভ্যাস। এটি প্রতিদিন অনুশীলন করলে শরীর ও মন উভয়েরই উন্নতি হয়।
সূর্য নমস্কার কী?
সূর্য নমস্কার দুটি সংস্কৃত শব্দ ‘সূর্য’ এবং ‘নমস্কার’-এর সমন্বয়, যার অর্থ সূর্যদেবতাকে অভিবাদন। এতে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে ১২টি ভিন্ন যোগাসন করা হয়। এটিকে একটি সামগ্রিক অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা শরীর, শ্বাস এবং মনের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে। প্রতিদিন সূর্য নমস্কার করলে সূর্য দেবতার আশীর্বাদ লাভ হয় এবং জীবনে ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পায়। সকালে খালি পেটে সূর্য নমস্কার করা সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়।
সূর্য নমস্কারের ১২ টি যোগাসন কী কী?
১. প্রণাম আসন (প্রার্থনার ভঙ্গি) – সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে করজোড়ে সূর্যকে প্রণাম করা হয়।
২. হস্ত উত্তানাসন (উত্তোলিত বাহু ভঙ্গি) – হাত উপরে তুলে শরীরকে সামান্য পিছনের দিকে বাঁকানো হয়।
৩. পদহস্তাসন (দাঁড়িয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া) – কোমর থেকে ঝুঁকে, হাত দুটি পায়ের কাছে মাটির দিকে নামানো হয়।
৪. অশ্বারোহী ভঙ্গি – একটি পা পিছনে নেওয়া হয় এবং সামনের হাঁটু ভাঁজ করে উপরের দিকে তাকানো হয়।
৫. দণ্ডাসন (প্ল্যাঙ্ক পোজ) – দুই পা পেছনে নিয়ে শরীরকে সোজা রাখা হয়।
৬. অষ্টাঙ্গ নমস্কার (আট-অঙ্গের অভিবাদন) – হাঁটু, বুক এবং চিবুক মাটিতে রেখে অভিবাদনের ভঙ্গিমা করুন।
৭. ভুজঙ্গাসন (কোবরা পোজ) – শরীরের উপরের অংশ তুলে পেছনের দিকে বাঁকানো হয়।
৮. পর্বত ভঙ্গি – কোমর উপরে তুলে শরীরকে একটি উল্টো ‘V’ আকৃতিতে আনা হয়।
৯. অশ্ব সঞ্চালনাসন – এখন অন্য পা-টি সামনে এনে চতুর্থ ধাপের ভঙ্গিটির পুনরাবৃত্তি করা হয়।
১০. পদহস্তাসন – পুনরায় সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি পায়ের কাছে আনা হয়।
১১. হস্ত উত্তানাসন – শরীরকে উপরে তোলা হয় এবং হাত দুটি পিছনে নেওয়া হয়।
১২. প্রণাম আসন- অবশেষে, হাত দুটি শুরুর অবস্থানে একত্রিত করা হয়।
সূর্য নমস্কারের প্রধান উপকারিতা কী কী?
১. আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সূর্য নমস্কার করলে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বিকাশে সহায়তা করে।
২.শরীরকে শক্তিশালী করে। এটি পুরো শরীরের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করে, যা আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখে।
৩. শরীরের ওজন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সূর্য নমস্কার একটি কার্যকরী সর্বাঙ্গীণ ব্যায়াম, যা ক্যালোরি পোড়াতে এবং ফিটনেস বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের জন্য উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শ্বাসতন্ত্রের জন্যও উপকারী ।
৫. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম এবং নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মনকে শান্ত রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
Cough Syrup: আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিনতেই পারবেন না সর্দির সিরাপ? ভাল হল না মন্দ? বলছেন চিকিৎসক
