
শীত পড়লেই উপচে পড়ে আলনা। সোয়েটার, জ্যাকেট, টুপি, মাফলারই চোখে পড়ে বাড়িতে। আর বাড়িতে শিশু থাকলে তো কথাই নেই।

ঠান্ডা ও দূষণ থেকে রক্ষা করতে শিশুর গায়ে একাধিক জামা, জ্যাকেট চাপাতেই থাকি আমরা। কিন্তু শীতকালে শিশুকে অতিরিক্ত জামাকাপড় পরানো মোটেই উচিত নয় বলে মত চিকিৎসকদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে অবশ্যই সোয়েটার, টুপি পরান শিশুকে। কিন্তু তাই বলে একটার উপর একটা চাপিয়ে দেবেন না। এতে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাত-পা তেমন নাড়তে পারে না তারা, বাইরে খেলাধুলোও করতে পারে না, যা তাদের হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও খারাপ।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি জামাকাপড় পরালে শিশুর শরীরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। শারীরিক ভাবে তেমন সক্রিয় থাকতে পারে না, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।

শীতকালে অতিরিক্ত জামাকাপড় পরালে জলশূন্যতাও দেখা দিতে পারে শিশুর মধ্যে। ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দূষণের জন্য এমনিতেই ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে আজকাল। বাড়তি জামাকাপড় পরালে শিশুর বৃদ্ধিও ব্যহত হতে পারে।

অনেক সময় সোয়েটার-জ্যাকেটের ঠেলায় হাত-পাও ঠিকঠাক নাড়াচাড়া করতে পারে না শিশু। ঝুঁকে কিছু তুলতে যাওয়া হোক বা দৌড়নো, অথবা কিছু বেয়ে উপরে ওঠা, সমস্যায় পড়ে শিশুরা।

বেশি সোয়েটার-জ্যাকেট পরালে গরম লাগতে শুরু করে। এতে বিরক্ত হয় শিশুরা। খেলাধুলো, দৌড়নোই বন্ধ করে দেয়, যা তাদের পেশির বৃদ্ধি, সমন্বয়কেও ব্যহত করে।

অতিরিক্ত জামাকাপড় পরালে ঘামতে শুরু করে শিশু। শরীরে হাওয়া-বাতাসও লাগে না। ফলে ত্বক চুলকাতে শুরু করে, ব্যাকটিরিয়া-জনিত বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ হয়। এমনিতেই শীতকালে জলপান কম হয়। তার উপর জ্যাকেটের ভিতর ঘামে শরীর। জলশূন্যতায় ভুগতে পারে শিশু।

যতই ঠান্ডা পড়ুক না কেন, রোজ অন্তত ১৫-২০ মিনিট শিশুদের গায়ে রোদ লাগা দরকার, দূষণ যখন কম থাকবে, তাদের বাইরে খেলতে পাঠানো দরকার বলে মত চিকিৎসকদের একাংশের।এতে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হয় না।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে সোয়েটার-জ্যাকেট পরালেও, তা যেন অতিরিক্ত না হয়। এমন জামাকাপড় পরান, যার মাধ্যমে হাওয়া-বাতাস লাগতে পারে শরীরে। একটার উপর আর একটা চাপিয়ে দেবেন না।

ডিসক্লেইমার : প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাবি, পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ / চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন ও সেইমতো নিয়ম মেনে চলুন।
Published at : 06 Dec 2025 05:24 PM (IST)
আরও জানুন লাইফস্টাইল-এর
আরও দেখুন
