কলকাতা: রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হাওড়ার প্রতিভাবান রাইফেল শ্যুটার। নাম দময়ন্তী সেন। বয়স ১৫ বছর। মধ্য হাওড়ার ৩০/২ উমাচরন ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী। গতকাল সকালে দোকানে কেনাকাটা করতে বেড়িয়েছিল সে। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। হাওড়া স্টেশনে একটি প্ল্যাটফর্মে তাকে শেষ দেখা যায়। দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, তাঁর মেয়ে শ্যুটিংয়ে জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছে। ভাল সাফল্য পেয়েছে। প্রতিদিন সকালে তাঁর মেয়ের অনুশীলন থাকে। ধ্রুবজ্যোতি বলেছেন, ‘গত পরশু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিল। মেয়ের মোবাইল ওর কাছে ছিল। কোনও ঝামেলা কিংবা অশান্তি হয়নি। কিন্তু তারপরেও কী এমন হল বোঝা যাচ্ছে না।’
উদ্বিগ্ন গোটা পরিবার ও সতীর্থরা। ইতিমধ্যে হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবর দিয়েছেন পরিবারের লোকজন। পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে।
দময়ন্তীর মা মৌমিতা রায় সেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি-সহ পোস্ট করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের একটি পোস্ট করেন মৌমিতা। লেখেন, ‘গতকালের পোস্টের পর একটি মাত্র নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা গিয়েছে যে, আমার মেয়ে দময়ন্তী সেনকে গতকাল দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ শ্রীরামপুরের মাহেশ রথতলা এলাকায় শেষবার দেখা গিয়েছিল। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কয়েকজন জানিয়েছেন যে, তাঁরা শ্রীরামপুরে বটতলায় তাকে দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আরও প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত আমার মেয়ে বাড়ি ফেরেনি এবং তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
এরপরই দময়ন্তীর মা লিখেছেন, ‘শ্রীরামপুর, রিষড়া, মাহেশ এবং আশেপাশের এলাকার সকলের কাছে আমার আন্তরিক অনুরোধ, দয়া করে এই পোস্টটি যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন। আপনাদের একটি শেয়ার বা একটি তথ্য হয়তো আমার মেয়েকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। যদি কেউ তাকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, অনুগ্রহ করে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় অথবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও প্রার্থনা একান্তভাবে কাম্য।’ পোস্টের সঙ্গে ফোন নম্বরও শেয়ার করেছেন মৌমিতা।
দময়ন্তী নিখোঁজ, সেই খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অলিম্পিয়ান শ্যুটার জয়দীপ কর্মকারও। তিনিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দময়ন্তীকে ফিরে আসার আবেদন করেছেন। শ্যুটারের বাবার সঙ্গে দেখা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
