
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলদাতা গ্রহ হিসেবে মনে করা হয়। শনির সাড়েসাতি সম্পর্কে কমবেশি সকলেই জানেন। কিন্তু শনির পনবতী বা ধাইয়া কী, তা অনেকেরই অজানা। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় জীবনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ, দায়িত্ব এবং পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারেন জাতকরা।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, জন্মরাশি থেকে চতুর্থ অথবা অষ্টম রাশিতে শনির গোচর হলে তাকে শনির পনবতী বা ধাইয়া বলা হয়। এই সময়কাল সাধারণত প্রায় আড়াই বছর স্থায়ী হয়। এই সময়ে ব্যক্তির জীবনে কাজ, অর্থ, সম্পর্ক কিংবা মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওঠানামা দেখা দিতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা রয়েছে।

বর্তমানে শনি মীন রাশিতে অবস্থান করছে। জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, ৩ জুন ২০২৭ সালে শনি মেষ রাশিতে প্রবেশ করবে। শনির এই রাশি পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েকটি রাশির উপর শনির প্রভাবেও পরিবর্তন আসবে।

প্রতিবেদনে জ্যোতিষীদের মত অনুযায়ী বলা হয়েছে, ৩ জুন ২০২৭ থেকে কর্কট এবং মকর রাশির উপর শনির পনবতী শুরু হবে। ফলে এই দুই রাশির জাতকদের জীবনে শনির প্রভাব নতুনভাবে দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, জ্যোতিষীয় হিসাব অনুযায়ী সিংহ ও ধনু রাশি ৩ জুন ২০২৭ থেকে শনির ছোট পনবতীর প্রভাব থেকে মুক্ত হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মকর রাশির জাতকদের জন্য ২০২৭ সালে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওঠানামা দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল হতে পারে। পরিশ্রমের ফল পেতে দেরি হতে পারে এবং কারও সঙ্গে বিবাদ বা মতবিরোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া মানসিক চাপ বাড়তে পারে। জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিরোধ তৈরি হতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, পনবতী মানেই যে শুধুই অশুভ সময়, তা নয়। জন্মছকে শনি শুভ অবস্থানে থাকলে এই সময়েও কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হয়। তাই শনির পনবতী নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, শনির প্রভাবকে শুধুমাত্র অশুভ হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। জন্মছকে শনি শুভ অবস্থানে থাকলে পনবতীর সময়েও কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র পনবতীর নাম শুনে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

Disclaimer: এই প্রতিবেদন জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস ও গণনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গুরুত্বপূর্ণ জীবনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র জ্যোতিষীয় ভবিষ্যদ্বাণীর ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়।
Published at : 08 Aug 2026 08:11 AM (IST)