May 19, 2026
f2ee0f32a53c55757f4c11f6f722d2851779188224778338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: এখনও টালমাটাল পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা করেছে ইরান। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই ফের খবরের শিরোনামে পাকিস্তান। সংযুক্ত সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে তারা। শুধু তাই নয়, ইসলামাবাদ থেকে যুদ্ধবিমানও পৌঁছে গিয়েছে। এমনকি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও সরবরাহ করা হয়েছে। (Pakistan-Saudi Arabia Defence Deal)

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সামরিক চুক্তির আওতায় সৌদিতে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে ৮০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে এক স্কোয়াড্রন। প্রত্যেক স্কোয়াড্রনে সাধারণত ১২ থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান থাকে। সেগুলি ওড়ানোর জন্য মোতায়েন থাকেন পাইলট। পাশাপাশি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতি কর্মীও থাকেন। (Pakistan-Saudi Arabia Deal)

আরও পড়ুন: নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা ভারতে, শুরুতেই যোগ দিলেন তৃণমূলের দুই হাই-প্রোফাইল সাংসদ, এল ৫ দফার ইস্তেহারও

বিশেষ সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদিতে ১৬টি JF-17 যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। চিনের সঙ্গে যৌথ ভাবে ওই যুদ্ধবিমান উৎপাদন করে তারা। এপ্রিলের গোড়াতেই সেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হয় রিয়াধে। পাশাপাশি, দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠানো হয়েছে। ভারতের যে ড্রোন স্কোয়াড্রন রয়েছে, সেই ‘শৌর্য স্কোয়াড্রনে’র এক একটি ইউনিটে ২০ থেকে ৩০ জম কর্মী রয়েছেন। প্রয়োজনে আরও বাহিনী পাঠাতে রাজি পাকিস্তান। চিনা HQ-9 এয়ার সিস্টেমও পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনীই সব সামলাচ্ছে। খরচ বহন করছে সৌদি।

সৌদি আরবের উপর কোনও ভাবে আক্রমণ নেমে এলে, তা ঠেকানোর জন্যই পাকিস্তান ওই বিপুল পরিমাণ সেনা, যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্সের তরফে পাকিস্তান সেনা এবং বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তারা। কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি আরবও। 

আরও পড়ুন: এ কোন পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে! আগের পরিচয় ফিরে পেল লাহৌর, ইসলামপুর হল কৃষ্ণনগর, নামবদল বাবরি মসজিদ চকেরও

গত বছরই সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির খুঁটিনাটি যদিও গোপন রাখা হয়েছে। তবে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চুক্তি অনুযায়ী, পরস্পরের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ সৌদি এবং পাকিস্তান। এক দেশের উপর হামলা হলে, তা অন্য দেশের উপর হামলা বলেও ধরা হবে। একসঙ্গে হামলার মোকাবিলা করবে দুই দেশ। পরস্পরকে সবরকম ভাবে সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। 

শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানান, পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির ছত্রছায়ায় চলে এসেছে সৌদি। অর্থাৎ প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র বা প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে পারে রিয়াধ। সৌদি এবং পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতায় ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলে সেই সময় মতামত জানিয়েছিলেন কূটনীতিকরা। 

দুই নিরাপত্তা আধিকারিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, আপাতত উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করবে পাক বাহিনী। সৌদি বাহিনীকে প্রশিক্ষণও দেবে তারা। তবে আগে থেকেই সৌদিতে পাক বাহিনী মোতায়েন ছিল। সামরিক চুক্তি অনুযায়ী, এককালীন ৮০০০০ সেনা সৌদিতে মোতায়েন রাখতে পারে পাকিস্তান। যুদ্ধজাহাজও পাঠাতে পারে। তবে সৌদিতে কোনও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে কি না পাকিস্তান, তা এখনও অস্পষ্ট। 

আমেরিকা, ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যখন চরমে, সেই সময় সৌদির জ্বালানি পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। সেই সময়ও সৌদিতে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। এর পর পরই যুদ্ধবিরতিতে মধ্য়স্থতাকারী হিসেবে অবতীর্ণ হয় তারা। সেই সময় সৌদির তরফেও ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হয়। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks