Rajesh Exports In Trouble : এবার বদলে যেতে পারে পুরো পরিস্থিতি। রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্ত শুরু করল ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (NFRA)। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির (SEBI)-র অভিয়োগের ভিত্তিতে রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে NFRA ।
কী অভিয়োগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু
সম্প্রতি সোনা পরিশোধক ও জুয়েলারি প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’-এর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া। প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্বের গরমিল পাওয়া যায় কোম্পানির হিসেবে। সেবির অভিযোগ, হিসেবে ভুল তথ্য পেশ করেছে রাজেশ এক্সপোর্ট। এই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই এবার তদন্তে নামল দেশের অডিট ও ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
তদন্তের বিষয়ে কী বলছে NFRA
রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছে ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (NFRA)। বাণিজ্য সংগঠন ফিকি-র অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি এনএফআরএ-এর চেয়ারপার্সন নীতিন গুপ্ত বলেন, ‘আমরা আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’ তবে তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি বা এটি শেষ হতে কতদিন সময় লাগতে পারে, সেই বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা জানাতে রাজি হননি তিনি।
রাজেশ এক্সপোর্টের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তুলেছিল সেবি ?
সেবির দাবি অনুযায়ী, রাজেশ এক্সপোর্টস লিমিটেড ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির আয় বা রাজস্ব দেখানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাপক গরমিল করেছে। সেবি-র মতে, এটি সংস্থার মোট ঘোষিত রাজস্বের প্রায় ৯৯.৮০ শতাংশ। সেবি জানিয়েছে, সংস্থার আয়ের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ আসত সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক সহযোগী সংস্থা ‘Valcambi SA’ থেকে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই সংস্থাগুলির আর্থিক খতিয়ান কখনই জনসমক্ষে আনা হয়নি।
৩ ভুয়ো লেনদেন ও তহবিল তছরুপের একাধিক অভিযোগ
সেবির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘অ্যাফ্লুয়েন্স শেয়ার্স অ্যান্ড স্টকস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থার সঙ্গে ১১,৪৮৭ কোটি টাকার বিক্রি এবং ১১,৪৮৮ কোটি টাকার ক্রয়ের হিসাব দেখিয়েছে রাজেশ এক্সপোর্টস। অথচ সংশ্লিষ্ট ওই সংস্থাটি এই ধরনের কোনও লেনদেনের কথাই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শুধু তাই নয়, অডিট কমিটির অনুমতি ছাড়াই সংস্থার ৩৩৯ কোটি টাকা কর্ণধার রাজেশ মেহতার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল যা দিয়ে তিনি ডেরিভেটিভ ট্রেড করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এই হিসেব কারচুপির জেরে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীসহ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ১২,৭২৬ কোটি টাকা নষ্ট হয়েছে।
পাল্টা কী বলেছে রাজেশ এক্সপোর্ট
যদিও রাজেশ এক্সপোর্টের দাবি, হিসেব সংক্রান্ত ফাইল খুঁজে পায়নি সেবি। পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাজেশ মেহতা বলেন, “আমরা সেবি-কে লক্ষ লক্ষ পাতার প্রায় ৩০০-৪০০ জিবি নথি দিয়েছিলাম। আমার মনে হয় তারা সঠিক নথিপত্রগুলি মিস করে গেছে। আর সেই কারণেই এই বিশাল বিভ্রান্তির তৈরি হয়েছে।”
