নয়াদিল্লি: গত বারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) আসন্ন মরশুমে ‘হোমগ্রাউন্ড’ বদল কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল। দিনকয়েক আগে তো ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রায়পুরে আরসিবির দুই ম্যাচ আয়োজন করার কথা নিশ্চিত পর্যন্ত করে দিয়েছিলেন। তবে আজ আরসিবির তরফেই এক বিবৃতিতে ফের একবার তাদের আসন্ন আইপিএল (IPL 2026) মরশুমের হোম ভেন্যু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে।
আরসিবির তরফে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই যাতে তাদের ঘরের ম্যাচ আয়োজন করা যায় এবং যাতে দর্শকদের ম্যানেজ করতেও সুবিধা হয়, সেই লক্ষ্যে এক বিরাট পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত বছর আরসিবি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই তাদের বিজয়োৎসবে চ্যাম্পিয়নদের এক ঝলক দেখার জন্যই লক্ষ লক্ষ সমর্থক চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে জমায়েত হয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে বেরিয়ে যায় এবং হুড়োহুড়িতে ১১ জন ব্যক্তি প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর থেকে আর চিন্নাস্বামীতে কোনওরকম ম্যাচ আয়োজিত হয়নি। বিজয় হাজারে ট্রফির ম্যাচও সেখান থেকে শেষ মুহূর্তে স্থানান্তরিত করা হয়। তারপরে চিন্নাস্বামীতে আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু আরসিবি চিন্নাস্বামীতেই নিজেদের ম্যাচ আয়োজন করার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতেও রাজি। শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে আরসিবির তরফে মাঠে ৩০০ থেকে ৩৫০টি এআইসমৃদ্ধ ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই ক্যামেরা বসানোর জন্য আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ হতে পারে, যার পুরোটাই আরসিবির তরফে বহন করা হবে বলেও জানানো হয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির তরফে জানানো হয় এই ক্যামেরাগুলি দর্শকদের মুভমেন্ট ম্যানেজ, সুষ্ঠভাবে লাইন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখার মতো বিষয়গুলিতে সহায়তা করবে যার ফলে সমর্থকদের সুরক্ষা অনেকাংশেই বাড়বে। ২৬ মার্চ থেকেই সম্ভবত আইপিএের ১৯তম মরশুম শুরু হবে। তাই এই ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য চিন্নাস্বামীর হাতে সময় খুবই সীমিত। যদি এরপরেও যদি সরকারি বিভিন্ন এজেন্সির তরফে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়া যায়, তাহলে বাধ্য হয়েই আরসিবিকে নিজেদের ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী ছেড়ে অন্যত্র ঘরের ম্যাচগুলি খেলতে হবে।
এক্ষেত্রে রায়পুরের নাম আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ডব্লুপিএলের ম্যাচগুলি আয়োজন করা নভি মুম্বইয়েও আরসিবির বেশ অনেকগুলি হোম ম্যাচ আয়োজন করা হতে পারে।
