Nirmala Sitharaman : আসন্ন ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হতে চলেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা রেখেছে স্বাস্থ্য খাত।
বাজেট ২০২৬-কে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাতের মূল বিষয়গুলি রইল এখানে
বাজেট ২০২৬: স্বাস্থ্য খাতে কি বড় কোনও চমক আসতে চলেছে ?
গত কয়েক বছরে ভারতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৯৯,৮৫৮.৫৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে এই অঙ্ক ৮৬ হাজার কোটি থেকে ৯০ হাজার কোটির ঘরে ঘোরাফেরা করছিল। তবে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ভারত এখনো অনেকটাই পিছিয়ে।
বিশ্বের তুলনায় ভারতের অবস্থান
বিশ্বব্যাঙ্কের ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত তার মোট জিডিপির (GDP) মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। যেখানে উন্নত দেশগুলোর চিত্রটা অনেকটা এরকম:
আমেরিকা: ১৭-১৮%
জাপান: ১০-১১%
রাশিয়া: ৫-৬%
চিন: প্রায় ৭% (দ্রুত পরিকাঠামো বৃদ্ধি করছে)
মাঝারি ও ছোট হাসপাতালগুলোর দাবি
দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলোর বাইরে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ছড়িয়ে দিতে মাঝারি মাপের (Mid-sized) হাসপাতালগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রকাশ হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডঃ ভি.এস. চৌহানের মতে, এই হাসপাতালগুলোই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।
তাদের প্রধান দাবিগুলো হল:
সহজ পুঁজি ও দ্রুত অনুমোদন: নতুন হাসপাতাল তৈরি বা সৃদৃঢ় করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং দ্রুত সরকারি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা।
বকেয়া টাকা মেটানো: সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের (যেমন PMJAY) অধীনে করা চিকিৎসার টাকা হাসপাতালগুলোকে সময়মতো মেটানো প্রয়োজন। টাকা আটকে থাকলে নতুন বিনিয়োগ বাধা পায়।
জিএসটি (GST) সংস্কার: চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতির ওপর জিএসটি কমিয়ে খরচ কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল হেলথ ও পরিকাঠামো: গ্রাম ও মফসসল এলাকায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ পলিসি প্রয়োজন।
বাজেট থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
১ চিকিৎসা খরচ কমানো: ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানিকৃত উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর আশা করা হচ্ছে।
২ বিমার আওতা বৃদ্ধি: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে আরও বেশি মানুষকে এর সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩ রোগ প্রতিরোধী যত্ন (Preventive Care): শুধুমাত্র রোগের চিকিৎসা নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের জন্য স্ক্রিনিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে: স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় যদি জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়া যায়, তবেই সাধারণ মানুষের পকেটের টান (Out-of-pocket expenses) কমবে এবং ভারত একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
