কলকাতা: সিএবি মিডিয়ার তরফে দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী রাত ৮.৩০ পর্যন্ত ইডেনে দর্শক সংখ্য়া ছিল ৩৩,৫৩৩। সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে পরে আরও একটু বাড়তেই পারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিতে ভারত পৌঁছলেও, সূর্যদের খেলা নেই ইডেনে। কিন্তু তাতেও বাঙালি যে ক্রিকেট প্রেমী। তাই গুটি গুটি পায়ে ইডেনমুখি হয়েছিল তাঁরা বিশ্ব ক্রিকেটের দুই শক্তিধর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মহারণ দেখার জন্য়। যে লড়াইয়ে খাতায় কলমে এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল প্রোটিয়া শিবির। আশা ছিল মিলারের ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যা দেখার। সমর্থকরা ইডেন ভরিয়েছিলেন ডি কক, মারক্রামের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস দেখবেন বলে। কিন্তু সে সব কিছুই হল না। কিউয়িদের বিরুদ্ধে ইডেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেল প্রোটিয়া শিবির। শেষ বেলায় দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন মার্কো ইয়েনসেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ঝোড়ো শতরান। তাঁকে কিছুটা সঙ্গ দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ত্রিস্টান স্টাবস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ বোর্ডে তুলল দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে ইডেনে প্রথমবার খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা কি পারবে কিউয়ি বধ করতে?
ইডেনে শেষ ম্য়াচ হয়েছিল ভারতের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার এইটের মহারণে সেই ম্য়াচে রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারতীয় দল। সেই ম্য়াচ দেখেই হয়ত স্য়ান্টনার ভেবেছিলেন যে রান তাড়া করবেন। টস জিতেই তাই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিউয়ি বোলাররা তাঁদের ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেননি। খেলার দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নেন কোল ম্যাকোনচি। মাত্র ১০ রান করে তাঁর বলে আউট হয়ে যান ডি কক। সেই ওভারেই পরের বলেই রিয়ান রিকেলটনও ফেরেন। হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকলেও তা মিস করেন ম্য়াকোনচি। এরপর রানের গতি ক্রমেই কমে যায় প্রোটিয়া শিবিরের। ডেভিড মিলার ৬ রান করে আউট হয়ে যান এদিন। ১০ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বোর্ডে মাত্র ৭৭ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে প্রোটিয়া বাহিনীর মিডল অর্ডারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ত্রিস্টান স্টাবস মিলে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন।
ব্রেভিস ৩৪ ও স্টাবস ২৯ রান করেন। শেষ চার ওভারে ব্যাট হাতে ইডেনে মারমুখি হয়ে ওঠেন মার্কো ইয়েনসেন। দীর্ঘকায় প্রোটিয়া অলরাউন্ডার ৩০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। দুটো বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তিনি।
