মুম্বই: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে কারা ফেভারিট? নিজেদের ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টের খেতাবি লড়াইয়ে নামতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। তাই খাতায় কলমে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে তারা। আবার সেমিতে যেভাবে পারফর্ম করেছে কিউয়ি শিবির, তাতে অনেকেই মনে করছেন মিচেল স্যান্টনারের দল বেগ দিতে পারে টিম ইন্ডিয়াকে। কিংবদন্তি প্রাক্তন প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেনও তাঁর পছন্দের চ্যাম্পিয়ন বেছে নিয়েছেন।
ফাইনালের আগের দিন এক এবি ডিভিলিয়ার্সের সঙ্গে ইউটিউব চ্যানেলে আড্ডা দিতে গিয়ে স্টেন জানান, ”সত্যি কথা বলতে, সবাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চোকার্স বলে। আমি নিউজিল্যান্ডের কথা বলব। কিউয়িরাও কিন্তু অনেক বিশ্বকাপ জেতেনি, আর ওরা আমাদের থেকে বেশিবার ফাইনাল খেলেছে। তাই কিউয়িরা যদি আরও একবার ফাইনালে ব্যর্থ হয়, তবে কিন্তু ওঁরাই আসল চোকার্স হয়ে যাবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড ব্রিগেড। ২০২৩ বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আরও একবার আইসিসি টুর্নামেন্টে নক আউটে তীরে এসে তরী ডুবেছে প্রোটিয়া বাহিনীর। তবে কিউয়িরাও কিন্তু নক আউটে উঠে খেতাব জিতেছে, এমন অভিজ্ঞতা নেই। সেই ইস্যু টেনে এনেই স্টেন আরও বলছেন, ”আমি নিউজিল্যান্ড দলটাকে ভালবাসি। আমি নিজেও চাই যে ওরা খেতাব জিতুক। কিন্তু ওরা কি আদৌ পারবে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে। এটা সম্ভব অবশ্যই। কিন্তু তা কি হবে?”
কথায় কথায় উঠে এসেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল প্রসঙ্গ। সেই ম্য়াচে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে জিতে ফাইনালে প্রবেশ করেছিল কিউয়িরা। এবিডি বলছেন, ”আমি কিইয়ি দলটাকে পছন্দ করতাম না ২০১৫ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের জন্য। আমরাই একমাত্র দল ছিলাম যারা সেবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারত। কিন্তু আমাদের সেমিফাইনালেই হেরে ছিটকে যেতে হয়েছিল।”
ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্য়াচে আগামীকাল প্রথমেই থাকবে পাওয়ারপ্লে-র লড়াই। একদিকে কিউয়িদের বিধ্বংসী ওপেনার ফিন অ্যালেন, যিনি যে কোনও বোলিং অ্যাটাক তছনছ করতে ওস্তাদ। অন্যদিকে ভারতের প্রাণভোমরা যশপ্রীত বুমরা। পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টিতে বুমরার মাত্র ৫টি বল খেলেছেন অ্যালেন এবং একবারও আউট হননি। রবিবার কি বুমরাহ শুরুতেই অ্যালেনকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে ভারতকে ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারবেন?
মাঝের ওভারের রহস্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই! নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্যাটার টিম সিফার্ট টপ অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে পারদর্শী। আর তাঁকে আটকানোর দায়িত্ব ভারতের মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর। মজার ব্যাপার হল, আইপিএলে দু’জনকেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে আসন্ন মরসুমে। তাই এই লড়াইটা সত্যিই দেখার মতো হবে।
