সন্দীপ সরকার, কলকাতা: টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) সমাপ্ত। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজ়িল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে গোটা দেশকে উৎসবের রাত উপহার দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
আমদাবাদে সূর্যকুমার যাদবদের বিশ্বজয়ে গোটা দেশে যখন অকাল দীপাবলি, আতসবাজিতে ঢাকছে কলকাতার আকাশও, তখন বাইপাস লাগোয়া অভিজাত এক হোটেলে থমথমে ভাব। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্দিদশা কাটাচ্ছেন শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, জেসন হোল্ডাররা। টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে গত রবিবার, ১ মার্চ ইডেন গার্ডেন্সে ভারতীয় দলের সঙ্গে ম্যাচ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের। সেই ম্যাচ দুই দলের কাছেই ছিল কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। সেমিফাইনালে যেতে জিততেই হতো। ভারত সেই ম্যাচে জিতে শেষ চারের টিকিট পাকা করে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।
কিন্তু সেই থেকে কলকাতাতেই আটকে ক্যারিবিয়ান দল। ইরান ও ইজ়রায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে বিমান পরিষেবা ব্যাহত। তাতেই বাড়ি ফিরতে পারছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটারেরা। সোমবার, ৯ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোচ ড্যারেন স্যামির জন্য দেশে ফেরার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। একমাত্র স্যামিই সোমবার রওনা হচ্ছেন বলে খবর। বাকি দল এখনও বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্যামির দেশে ফেরার ব্যবস্থা হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বাকি ক্রিকেটারদের ফেরা এখনও স্থির হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে একটা চার্টার্ড বিমানে হেটমায়ার-হোপদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে খবর। যদিও নিশ্চিতভাবে কেউই কিছু বলতে পারছেন না এখনও।
ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি থিতিয়ে যাওয়ার কোনও লক্ষ্মণই নেই, বরং আরও সুর চড়াচ্ছে আমেরিকা। যার জেরে তীব্র মানসিক উদ্বেগের মধ্যে কলকাতায় আটকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেট দল। কবে দেশে ফিরবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। মানসিক উৎকণ্ঠায় সময় যেন কাটতেই চাইছে না ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের। কদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় করুণ আর্তি জানিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোচ ড্যারেন স্যামি।
তিনি পোস্ট করেন, ‘আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই…’ কতটা ছটফট করছেন তিনি, বুঝিয়ে দেন সেই পোস্টেই। সেদিনই আরও একটি পোস্ট করেন তিনি এক্স হ্যান্ডলে। লেখেন, ‘অন্তত একটা আপডেট দেওয়া হোক। আমাদের কিছু একটা বলো। আজ ফিরব, আগামীকাল ফিরব, নাকি পরের সপ্তাহে। পাঁচদিন হয়ে গেল।’
স্যামির ফেরার ব্যবস্থা হলেও, বাকিদের বাড়ি ফেরা নিয়ে এখনও উৎকণ্ঠা কাটছে না।
