কায়রো : এবার ভয়ঙ্কর ঘটনা সুদানে। বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চলল সুদানের একটি সেকেন্ডারি স্কুল ও একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। যার জেরে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলের ছাত্রী বলে জানা যাচ্ছে। আরও তিন ছাত্রী গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। এই হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে আধা-সামরিক ব়্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে। যদিও এনিয়ে তাদের তরফে কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনে এখনও।
খবর অনুযায়ী, সুদানে গত তিন বছর ধরে চলতে থাকা যুদ্ধে এটাই সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে ভয়ঙ্কর ঘটনা। যা হোয়াইট নীল প্রদেশের সুখেরি গ্রামে চালানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে লড়াই চলছে সুদানে। এখানকার খার্তুম এবং দেশের বিভিন্ন অংশে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে মিলিটারি ও ব়্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স(RSF)।
সুদানে চলতে থাকা ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের এমনই তথ্য। তবে, প্রকৃত সংখ্যা এর থেকেও অনেক বেশি হতে পারে বলে মত অন্য সংগঠনের। এই মুহূর্তে এই যুদ্ধ ভয়ঙ্কর পর্যায়ে রয়েছে। প্রায়ই ড্রোন হামলা চলছে। শুধু তা-ই নয়, এই যুদ্ধে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং অন্যান্য অপরাধ সহ নৃশংসতার চরম ঘটনা দেখা গেছে। যার তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল-আমেরিকা। সেই যুদ্ধেও বলি হয়েছে শৈশব। রেহাই নেই পড়ুয়াদের। ইজরায়েলি হানায় সম্প্রতি উড়ে গেছে ইরানের গার্লস স্কুল। স্কুলপড়ুয়া ও শিক্ষক সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়। গণকবরের সেই ছবি নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
যাদের দু’চোখ ভরে দেখার বাকি ছিল অনেক কিছু, যুদ্ধবিমান আর মিসাইলের আগুনে গোলা অকালেই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। যুদ্ধের জাঁতাকলে পড়ে প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ শিশু থেকে স্কুলপড়ুয়াদের। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়েবাহ’ স্কুলে। মর্নিং সেশনে ক্লাস চলার সময় সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ স্কুলে
আছড়ে পড়ে মিসাইল। স্কুলের একের পর এক প্রাণবন্ত ক্লাসরুম নিমেষে মৃত্যু-উপত্যকায় পরিণত হয়।
প্রাথমিকভাবে ইরানের শিক্ষামন্ত্রীর দাবি করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হানায় স্কুলপড়ুয়া ও শিক্ষক সহ এখনও পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষমতার দম্ভে ছোড়া মিসাইলের ঘায়ে নিমেষে শেষ এতগুলো কচি কচি প্রাণ!
