মুম্বই: ক্যাপ্টেন হিসেবে সূর্যকুমার যাদব টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও তাঁর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ২০২৪ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পুরোটাই নিষ্প্রভ ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টি টোয়েন্টি সিরিজে টুর্নামেন্ট সেরা হন। দুটো অর্ধশতরানও আসে ব্যাট থেকে। সবাই আশা করে নিয়েছিল যে পুরনো সূর্য ফিরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস সেই আশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এরপরই ফের ডাউনফল। তাহলে কি ক্যাপ্টেন্সির চাপ কি ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে সূর্যজুমারের? বিশ্বজয়ী প্রাক্তন অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিং অবশ্য সূর্যর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
আইসিসি রিভিউয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অজি কিংবদন্তি জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় ভারতের এই বিশ্বকাপ জেতার পেছনে সূর্যকুমারের অবদান বিরাট। ও নিজে সেভাবে ছন্দে ছিল না। কিন্তু এরপরও গোটা দলটাকে সামলে রেখেছে। মাঠের বাইরে অনেক কিছুই হয়, যা মানুষ দেখতে পারে না। কীভাবে ও প্লেয়ারদের সঙ্গে মিলে যেত, কথা বলত তা কিন্তু প্রশংসনীয়। সামনে থেকে চেষ্টা করেছে দলের যে কোনও মুহূর্তে পাশে থাকার। একজন প্রাক্তন অধিনায়ক হিসেবে এটা বুঝি যে নিজে ফর্মে না থাকলে ক্যাপ্টেন্সি কিছুটা কঠিন হয়ে যায়। সেখানে সূর্য কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা হাতে নিয়ে পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছিল।”
পন্টিং আরও বলেন, “এটা সত্যিই দেখার বিষয় যে সূর্য কীভাবে অভিষেক ও স্যামসনের কথা বলেছে শেষ কয়েকটা সপ্তাহ। এখান থেকেই ওর নেতৃত্ব গুণের পরিচয় মেলে। নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে চিন্তা মাথায়, তবুও দিলের প্লেয়ারদের মোটিভেট করেছে সূর্য সবসময়।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে উঠে এসেছিল অবসর প্রসঙ্গ। ৩৫ পেরনো সূর্যকুমার কি আদৌ আর খেলবেন? যেখানে শুধুমাত্র একটি ফর্ম্যাটেই তাঁকে দেখা যায় এখন। তবে সেই সম্ভাবনা মোটামুটি উড়িয়ে দিয়েছিলেন সূর্য নিজেই। এমনকী আগামীর লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। সূর্য বলছেন, “আমার আগামী লক্ষ্য ২০২৮ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক্স। কুড়ির ফর্ম্যাটে টানা তিনবার বিশ্বকাপ জেতা প্রথম দল হতে মরিয়া ভারত। আর অলিম্পিক্সে সোনা জয় হলে তা হবে স্বপ্নের মত।” তবে সূর্য যতই বলুন, তাঁর রানে ফেরাটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য বর্তমানে।
