ঢাকা : জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা রয়েছে ভারতে। এনিয়ে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কেন্দ্র। এর পাশাপাশি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছে। কঠিন এই পরিস্থিতিতেও পড়শি দেশের পাশে দাঁড়াল ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সংকট তৈরি হওয়া বাংলাদেশকে আরও ডিজেল পাঠিয়ে সাহায্য করল ভারত। অতিরিক্তি আরও ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে। শুক্রবার রাতে একথা জানান সিনিয়র এক সরকারি আধিকারিক। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার মুর্শেদ হোসেন আজাদ বলেন, “ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে বাংলাদেশে। এর সঙ্গে সঙ্গে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে মোট ১৫ হাজার টন ডিজেল পেল বাংলাদেশ। ২৮ মার্চ অতিরিক্ত ৬ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাম্পিং করে পাঠানো হবে। আসন্ন এপ্রিল মাসে, বাংলাদেশকে ৪০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। আমরা সরকারিভাবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।”
আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তার দরুণ ভারতে চাপ বাড়ছিল সাধারণ মানুষের উপর। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোলের লিটারপ্রতি অন্তঃশুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করেছে কেন্দ্র। ডিজেলের উপর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে অন্তঃশুল্ক। আগে প্রতি লিটার ডিজেলের উপর চাপানো হয়েছিল ১০ টাকা শুল্ক। যদিও আপাতত খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। শুল্ক কমে যাওয়ায় স্বস্তিতে তেল সংস্থাগুলি, যারা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে প্রতিদিন বিপুল লোকসানে চলছিল। বিমানের জ্বালানির উপরও অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। অ্যাভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েলের উপরও অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। জ্বালানির দাম বাড়ায় যাতে বিমানের টিকিটের দাম না বাড়ে, সেদিকে তাকিয়ে পদক্ষেপ কেন্দ্রের।
কিন্তু, অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমবে? জ্বালানির দামের জ্বালায় জেরবার সাধারণ মানুষ সুরাহা পাবেন? বিভিন্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রের এই অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের সরাসরি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির লোকসান লাঘব করতেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলি যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার উপর সরকার অন্তঃশুল্ক নেয়। পশ্চিম এশিয়ায় লাগাতার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। তার মধ্যেও ভারতে খুচরো বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তার জেরে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলো চাপের মুখে পড়েছিল। ক্রমশ বেড়ে চলা দামের সঙ্গে যুঝতে এবার অন্তঃশুল্ক কমিয়ে HPCL, BPCL, IOC-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোকে সুরাহা দিল কেন্দ্র।
