নয়াদিল্লি: যুদ্ধ চলছে একমাসের বেশি সময় ধরে। কিন্তু এখনও দেখা নেই তাঁর। না সশরীরে হাজির হচ্ছেন, না ভিডিও বার্তা আসছে। হাতে গোনা কয়েক বার শুধু লিখিত বার্তাই পাঠিয়েছেন। তাই ইরাের নব নিযুক্ত সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা খামেনেইয়ের হাল-হকীকত নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। এবার সেই রহস্য নিবারণে এগিয়ে এল রাশিয়া। (Mojtaba Khamenei)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় মারা যান মোজতবার বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং পরিবারের অনেকে। প্রাণে বেঁচে গেলেও, ওই হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হন, তাঁর অঙ্গহানি হয়েছে বলেও শোনা যায়। এমনকি তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। মাঝখানে খবর আসে, রাশিয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন মোজতবা। (Iran News)
কিন্তু মোজতবা আসলে কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, এযাবৎ জানতে পারেননি কেউই। এমনকি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলও তাঁর নাগাল পায়নি। এবার রাশিয়া মোজতবার ঠিকানা প্রকাশ করল। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছেন, ইরানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি দেদভকে উদ্ধৃত করেছে রাশিয়ার RTVI. তাতে তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা ইরানেই রয়েছেন। যুক্তিসঙ্গত কারণেই জনসমক্ষে আসা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন তিনি।
আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু, তাঁর জায়গায় ইরানের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হয়েছেন মোজতবা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি বারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি তিনি। গত ১২ মার্চ প্রথম লিখিত বিবৃতি জারি করেন। এর পর ২০ মার্চ নওরোজের বার্তা দেন। তাঁর গলা পর্যন্ত শোনা যায়নি। এর ফলে জল্পনা শুরু হতে সময় লাগেনি। খোদ ট্রাম্প জানান, মোজতবা মারা গিয়ে থাকতে পারেন, অথবা তাঁর অবস্থা গুরুতর।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ বাবার বাসভবনেই ছিলেন মোজতবা। ক্ষেপণাস্ত্র যখন আছড়ে পরে, তার কয়েক মিনিট আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে বাগানে গিয়েছিলেন তিনি। তাই প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু মোজতবার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর অঙ্গহানি ঘটেছে বলেও খবর মেলে। চিকিৎসার জন্য মোজতবাকে মস্কো উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি ওঠে। তবে নিশ্চিত ভাবে কিছুই জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত।
ইরানে এই মুহূর্তে কার শাসন চলছে, মোজতবার নির্দেশ মতোই সব চলছে, না কি অ্যাসেম্বলি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও অধরা। তবে ইরানের রেভলিউশনারি কর্পস যুদ্ধ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই রেভলিউশনারি বাহিনীতে বেশ প্রভাব রয়েছে মোজতবার।
