ইরান-ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সংঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রতিদিনই ভয়াবহ হয়ে উঠছে আক্রমণের চেহারাটা। আর তার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। ইরান আক্রান্ত হওয়ার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দেশের তেল আমদানিতে। তেলের সরবরাহে ধাক্কা লাগায় হু হু করে বেড়েছে জ্বালানির দাম। এলপিজি নিয়ে শুরু হয়েছে হাহাকার। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি কার্যত রক্তাক্ত ! এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর। তেল সরবরাহে ধাক্কার পর এবার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বোতলবন্দি জলের দামে।
দাম বাড়ল জলের ( Water Price Hike )
ভারতের অন্যতম প্রচলিত প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটারের ব্র্যান্ড বিসলেরি ( Bisleri ) ইতিমধ্যেই দাম বাড়িয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। ১ লিটারের ১২ টি বোতলের একটি বাক্সের দাম বেড়েছে প্রায় ২৪ টাকা। Bailley এবং Clear Premium Water-এর মতো অন্যান্য সংস্থাও একই পথে হাঁটছে। Bisleri-র সিইও অ্যাঞ্জেলো জর্জ জানিয়েছেন, প্যাকেজিং এর খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে এই খরচ ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
কেন বাড়ছে দাম
বোতলবন্দি জলের PET বোতলগুলি তৈরি হয় কাঁচা তেল থেকে তৈরি পলিমার দিয়ে। যুদ্ধের জন্য এই পলিমারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে প্লাস্টিকের কাঁচামাল (রেজিন)-এর দাম প্রতি কেজিতে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১৮০ টাকা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, PET প্যাকেজিংয়ের দাম বাড়লে শুধু জল নয়, প্যাকেটবন্দি খাবার-দাবার, ওষুধ, কসমেটিকস, সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের পানীয় জলের বাজারে কী প্রভাব
ভারতে শহর ও গ্রামে বোতলবন্দি পানীয় জলের ব্যবহার এখন যথেষ্ট প্রচলিত। প্রায় ১৫% শহুরে এবং ৬% গ্রামীণ পরিবার পানীয় জলের জন্য বোতলেরজলের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় ২০% কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বড় উদ্বেগ
ভারতে এখনও পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৭০% ভূগর্ভস্থ জল দূষিত। ফলে বোতলজাত জলের উপর নির্ভরতা বাড়লেও, দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে চাপ।
