Iran US War: ইরানকে সাংঘাতিক হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ‘নরক নেমে আসার আগের ৪৮ ঘণ্টা…’, এভাবেই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইসলামিক রিপাবলিককে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের বলা হয়েছিল ১০ দিনের মধ্যে হয় চুক্তি করতে হবে, নাহলে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। গত ২৬ মার্চ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দেওয়া সময়সীমার আর মাত্র ২ দিন বাকি রয়েছে। ‘সময় পেরিয়ে যাচ্ছে’, বলছেন ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘মনে করো, আমি ইরানকে ১০ দিন দিয়েছিলাম একটা চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য। সময় কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে। নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা বাকি রয়েছে।’ ট্রুথ সোশ্যালে এমন হুমকিবার্তাই লিখেছেন ট্রাম্প।
গত ২৬ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তেহরানের জন্য সময়সীমা বাড়িয়েছেন তিনি। সেই সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে তেহরানকে। নাহলে আরও হামলার সম্মুখীন হতে হবে। আর এইসব নাকি ইরানের অনুরোধেই তিনি করেছেন, এমনই দাবি করেন ট্রাম্প। যদি ইসলামিক রিপাবলিক আমেরিকার যাবতীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ইরানের তরফে এইসব প্রস্তাব একতরফা এবং অন্যায্য বলেও দাবি করা হয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনেকদিন ধরেই ঝামেলা চলছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে সমস্যা। ইরান প্রথমে সব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি পৌঁছয় বিশ্বের অন্যান্য দেশে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সেই সময় জ্বালানি পৌঁছতে পারেনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দাম। পরবর্তী কিছুটা নরম হয় ইরান। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, ইউরোপ এবং তাদের বন্ধুদেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা হয়নি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার হরমুজের তেলের কোনও প্রয়োজন নেই। বরং যাদের দরকার তারা যেন হরমুজের দেখভাল করে, নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, পারলে দখল নিয়ে উপভোগ করে। তবে এই মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় হুঁশিয়ারির কথা প্রকাশ্যে এসেছে।
